বিদেশে বসে বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িত ২২ জনের তালিকা তৈরি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তালিকাটি তৈরি করা হয়। তাদের দেশবিরোধী চক্র হিসেবে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ইউরোপের বেশ কিছু দেশে সরকার তথা দেশের বিরুদ্ধে একটি চক্র ব্যাপক আকারে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এগুলো প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তিনি কমিটির পরামর্শ কামনা করেন।
কমিটির সভাপতি ফারুক খান এ সময় বলেন, দেশবিরোধী চক্রের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে সংসদীয় কমিটি এ ব্যাপারে সহযোগিতা দেবে।
কমিটির আরেক সদস্য নাহিম রাজ্জাক সরকার তথা দেশবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রগুলো সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি বেশি করে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
১১ দেশ ভ্রমণ করতে চায় সংসদীয় কমিটি : জনশক্তি রপ্তানি, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও বাংলাদেশবিরোধী প্রচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ১১টি দেশে ভ্রমণে যেতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব দেশ ভ্রমণের আয়োজন করার কথা বলেছে। গতকাল কমিটির ৩১তম বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কমিটির সভাপতি ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, মো. হাবিবে মিল্লাত ও নাহিম রাজ্জাক অংশ নেন।
জানা গেছে, কমিটি প্রথমে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, তুরস্ক, বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি এবং যুক্তরাজ্য পরিদর্শন করার সুপারিশ করেছিল। পরে অস্ট্রিয়া ও সুইডেন, এ দুটো দেশ অন্তর্ভুক্ত করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব দেশ পরিদর্শন সমাপ্ত করার সুপারিশ করে।
বৈঠকে ওই সুপারিশের অগ্রগতিতে উল্লেখ করা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া, পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস এবং পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগ সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস সফরগুলো আয়োজনের কার্যক্রম সমন্বয় করছে। সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, কমিটির সুবিধাজনক সময়ে তারা সফর আয়োজন করার জন্য প্রস্তুত।
এদিকে বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, চীনের মধ্যস্থতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সংখ্যায় যাই-ই হোক না কেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু হলেও যদি প্রত্যাবাসন করতে পারি সেটা একটি সফলতা হবে। একবার শুরু করলে পারলে ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতি হবে।
এর আগে কমিটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আসিয়ানভুক্ত একাধিক দেশ সফর করেছিল। ওই সফরে ওইসব দেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে সফর শেষে দেশে ফিরে কমিটির সদস্যরা জানিয়েছিলেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক, ডেনমার্কে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।