পরিবহন ধর্মঘট থাকায় রংপুর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিতে লালমনিরহাট থেকে বাইসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, গরুর গাড়ি ও হেঁটে আসার প্রস্তুতি নিয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার নেতাকর্মী।
রংপুরে পৌঁছে যাওয়া লালমনিরহাট জেলা বিএনপির নেতারা এ তথ্য জানান।
তারা বলেন, শনিবার দুটি পয়েন্ট থেকে তারা রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। লালমনিরহাট পৌর ও সদর উপজেলা ইউনিটের নেতাকর্মীরা রওনা দেবেন বড়বাড়ী শিমুলতলা শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় থেকে। আর আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম পৌরসভা ও পাটগ্রাম উপজেলা ইউনিটের নেতাকর্মীরা রওনা দেবেন কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা থেকে। তারা মহিপুরে তিস্তা সেতু হয়ে রংপুরের সমাবেশস্থলে যোগ দেবেন। আদিতমারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাসানুল ইসলাম বান্না জানান, সমাবেশে যোগ দিতে ১৫ হাজার সাইকেল, অটোরিকশা, গরুর গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যথাসময়ে তারা সমাবেশস্থলে যোগ দেবেন। কোনো বাধাই আমাদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। যদি কোনো পক্ষ থেকে কোনো রকম বাধা দেওয়া হয় সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে সমাবেশ শুরুর আগেই রংপুরের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা কয়েকটি দাবিতে পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করেন।
বিএনপির দাবি সমাবেশে যেন জমায়েত কম হয় সে জন্য সরকারের ইন্ধনে পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
ধর্মঘট উপেক্ষা করে বিভিন্ন উপায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রংপুর আসতে শুরু করেন।
শুক্রবারও আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা রংপুরে জমায়েত হন। শুক্রবার সমাবেশের মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে বিভিন্ন হোটেলে হোটেলে রেড দিচ্ছে পুলিশ। গণতন্ত্র উদ্ধার, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, জনগণের দাবি নিয়ে সারাদেশে যে গণসমাবেশ শুরু হয়েছে, তাতেই আওয়ামী লীগ সরকারের ভয় ধরেছে। সমাবেশে নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে। কিন্তু এসব আমাদের সমাবেশে কোনো বাধা হতে পারবে না। মানুষের জোয়ার আসা শুরু হয়েছে। আপনারাই কাল লিখবেন, এ কোন সমাবেশ! শুধু মানুষ আর মানুষ। জনগণ জেগে উঠেছে, তারা তাদের অধিকার আদায়ে এখন সোচ্চার, তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণ