কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে (ক্যাম্পে) সম্প্রতি একের পর এক টার্গেট কিলিং (পূর্বপরিকল্পিত হত্যা) হচ্ছে। গত দুই মাসে ১৫ জন রোহিঙ্গা খুন হয়েছে সন্ত্রাসীদের হাতে। এবার এসব টার্গেট কিলিং বন্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ‘অপারেশন রুট আউট’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। অভিযানের প্রথম দিনে গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু করে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এপিবিএন-৮ এবং ১৪ যৌথভাবে ছয়টি আশ্রয়শিবিরে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় আটক করা হয় ৪১ জনকে।
এপিবিএন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যাম্প-১৩, ১৮, ১৯, ১৭, ২০ ও ২০ এক্সটেনশন-এ নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রুট আউট’ নামে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযানে সহযোগিতা করছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। প্রথম দিনের অভিযানে আটক ৪১ জনের মধ্যে ৬ জন হত্যা মামলার আসামি এবং মাদকসহ আটক করা হয় ৩ জনকে। এছাড়া অন্যান্য মামলার আসামি রয়েছে ৪ জন।
আটকদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয় ২৮ জনকে। তাদের সবাইকে গতকাল সকালে উখিয়ার তাজনিমার খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে নেওয়া হয় ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আটক ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং দুষ্কৃতকারীদের নির্মূল করতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ৮ এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ।
৮ এপিবিএন-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আমির জাফর বলেন, ‘ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চালানো হয়। সামনে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, অভিযানে আটক সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত চার মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছয় মাঝিসহ (নেতা) অন্তত ২০ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্য সাতজন স্বেচ্ছাসেবক। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুই রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়।