নৌবহরে হামলা শস্য চুক্তিতে থাকছে না রাশিয়া

কৃষ্ণসাগরের ক্রিমিয়া উপকূলে রুশ নৌবহরে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গতকাল শনিবার সকালে ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল বন্দরে ওই হামলা চালানো হয়। হামলায় ৯টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। তবে এই হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। খবর বিবিসির।

এদিকে গতকালের হামলার পর ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানির চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘের উদ্যোগে এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় গত ২২ জুলাই ওই চুক্তি হয়েছিল।

সেভাস্তোপোল বন্দরে গতকালের হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর নৌবহরের একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়া অভিযোগ করেছে, এ হামলায় ইউক্রেনকে সাহায্য করেছে যুক্তরাজ্য।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করেছিল রাশিয়া। তবে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর এ অঞ্চল লক্ষ্য করে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। চলমান যুদ্ধে অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনে অভিযান চালাতে সামরিক সরঞ্জাম রাখার জন্য ক্রিমিয়ার ভূমি ব্যবহার করছে রুশ বাহিনী।

নৌবহরে ড্রোন হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মস্কো বলেছে, ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা ওই হামলায় জড়িত। তারা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে ওচাকিভ শহরে অবস্থান করছেন। ইউক্রেন বাহিনীকে গতকালের হামলা চালাতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ব্রিটিশ ওই বিশেষজ্ঞরা। অবশ্য এর সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেনি মস্কো।

তবে ব্রিটিশ সরকার রাশিয়ার নৌবহরে হামলায় সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মস্কোর দাবি মিথ্যা।

শস্য চুক্তিতে থাকছে না রাশিয়া : যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বন্ধ ছিল। পরে রপ্তানি চালু করতে জাতিসংঘের উদ্যোগে এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি চুক্তি হয়েছিল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে। প্রথম দফায় ১২০ দিনের জন্য এ চুক্তি করা হয়েছিল। গত ২২ জুলাই স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হবে। এরই মধ্যে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ এর মেয়াদ বাড়িয়ে এক বছর করতে চাইছে। গতকালের হামলার আগে রাশিয়া বলেছিল, এ ব্যাপারে সীদ্ধান্তের কথা আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে জানাবে।

চুক্তির পর ৮০ লাখ টন শস্য রপ্তানি করেছে ইউক্রেন। নতুন করে রপ্তানি শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দামও কমেছে। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের একজন মুখপাত্র বলেন, বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিতে জোর দিয়েছেন গুতেরেস। তবে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলছিল রাশিয়া। দেশটির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নথিও জাতিসংঘে জমা দেওয়া হয়। এরপর গত বুধবার জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত বলেন, চুক্তির একদিক শুধু বাস্তবায়ন হয়েছে। ইউক্রেন শস্য রপ্তানি করার সুযোগ পেলেও রাশিয়ার শস্য ও সার রপ্তানি করতে দেওয়া হচ্ছে না। এসব রপ্তানি শুরু হলে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। রাশিয়ার এই দাবি আমলে নেন জাতিসংঘ মহাসচিব। রাশিয়ার শস্য ও সার রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি না করতে আহ্বান জানান তিনি।

তবে গতকালের হামলার পর রাশিয়া বলেছে, যেসব জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো ওই চুক্তির আওতায় শস্য রপ্তানিতে যুক্ত ছিল। তারা এখন আর এই চুক্তিতে থাকছে না।