একটি শর্তও অপূর্ণ থাকলে নিবন্ধন হবে না : ইসি

নিবন্ধন পেতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলোকে শতভাগ শর্ত পূরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর। তিনি বলেন, একটি শর্তও যদি অপূর্ণ থাকে তবে রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। গতকাল রবিবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ইসি বলেন, আজ (রবিবার) আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। হয়তো কালকে কমিশন সচিবালয় ফাইল তুলবে। এরপর তারা যাচাই-বাছাই করে দেখবে। তারপর আমাদের কাছে দেবে। আমরা যদিকাগজপত্র দেখে মনে করি, আরও যাচাই করতে হবে তাহলে সেটা করা হবে। আর যদি ১০০ ভাগ শর্ত পূরণ হয় তাহলেই নিবন্ধন পাবে। কোনো একটি শর্তও যদি পূরণ না হয়, তাহলে নিবন্ধন দেওয়া হবে না।

কবে নাগাদ নিবন্ধন দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মে মাসে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হবে। মে মাসের শেষে যারা নিবন্ধন পাবে তাদের দেওয়া হবে, আর যারা পাবে না তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামীর লোকজন বিভিন্ন নামে দল গঠন করে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মো. আলমগীর বলেন, এই বিষয়ে আমাদের কোনো পর্যবেক্ষণ নেই। এ ব্যাপারে আমরা অফিসারদের দিয়ে কয়েকটা কমিটি করে দেব। সেখানে আমাদের সংবিধান ও আরপিও-সহ যে সমস্ত বিষয় আছে, তার আলোকে দলগুলো যেসব তথ্য ও ডকুমেন্ট দিয়েছে তা কমিটি পরীক্ষা করে দেখবে।

ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির শুরুতে রংপুরের সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে আমরা নির্বাচনটা সময়ের মধ্যেই করতে চাই, কোনোভাবে সময় শেষের দিকে করতে চাই না।

রংপুর সিটি নির্বাচনে ইভিএম ও সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি আলমগীর আরও বলেন, সেটা কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত হবে। এখনই বলা যাবে না। তবে কমিশনের এগুলো ব্যবহারের একটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। আমাদের অবস্থান হচ্ছে যতগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে সেখানে আমরা ইভিএম ও সিসিটিভি ক্যামেরা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে প্রতিটা নির্বাচনের জন্য আলাদা আলাদা সভায় তখন এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।

জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা নয়, আমাদের রোডম্যাপে বলা আছে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। সম্ভব হলে আমরা সবগুলোতেই সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করব। আমরা মনে করি সিসিটিভি ক্যামেরা হলে অনিয়ম ধরাটা সহজ হবে। বাইরের অনিয়ম সবাই দেখে, কিন্তু ভেতরের অনিয়ম সবাই দেখতে পারে না। এটা অবশ্যই ভালো।

সিসি ক্যামেরা নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী আপত্তি জানালে তা মানা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি বলেন, আমাদের আর্থিক, কারিগরি ও ব্যবস্থাপনায় সম্ভব হয়, তাহলে আমরা কারও কথাই শুনব না। একই ব্যাপার ইভিএমের ক্ষেত্রেও। এখন সঠিক অপরাধীকে ধরতে ও নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে অপরাধীরা সতর্ক থাকে ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

গাইবান্ধায় পরবর্তী নির্বাচনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাইবান্ধা তদন্ত প্রতিবেদন ইসি সচিব সিইসির কাছে দিয়েছেন। রিপোর্ট আমরা এখনো দেখিনি।  রিপোর্ট পাওয়ার পরে আমরা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। রিপোর্ট এখনো আমাদের হাতে  আসেনি। হাতে এলে আমরা বসব। আলোচনা করব, তারপর সিদ্ধান্ত।