বৈশ্বিক সংস্কৃতির প্রাচীনতম উৎসব হ্যালোইন

বিশ্বের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব হ্যালোইন। যে ঐতিহ্যের অপরিহার্য অনুষঙ্গ জীবিতদের সঙ্গে মৃত আত্মাদের মিলন। গ্রীষ্মের বিদায় ও শীতের শুরুর প্রথম দিনে প্রাচীন নানা আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয়রা এই পুনর্মিলনের আয়োজন করেন। দুই হাজার বছর আগে থেকে চলে আসা এসব উৎসব কালের পরিক্রমায় পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে স্থান নিয়েছে বৈশ্বিক সংস্কৃতিতে। লিখেছেন নাসরিন শওকত

শুরুর কথা

হ্যালোইন উৎসবের কথা মনে হতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে আধি ভৌতিক মুখোশ ও পোশাক পরা উৎসব আমোদী মানুষদের সমাবেশ। জানা যায়, মধ্যযুগ থেকেই হ্যালোইন উৎসব পালিত হয়ে আসছে। প্রাচীন কেল্টিক জাতির পালিত ‘সামহাইন’ উৎসব থেকেই মূলত হ্যালোইনের সূত্রপাত। যখন কেল্টিকরা ভূত তাড়ানোর জন্য নানা ধরনের পোশাক পরে পবিত্র উৎসবাগ্নি জ্বালাতেন। অষ্টম শতকে পোপ গ্রেগরি তৃতীয় খ্রিস্টীয় সন্তুদের প্রতি সম্মান জানানোর দিবস হিসেবে ১ নভেম্বরকে নির্ধারণ করেন, যা ‘অল সেইন্টস ডে’ হিসেবে পরিচিত। এর পরপরই স্যামহাইন উৎসবের কিছু ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত হয় ‘আল সেইন্টস ডে’তে। এর আগে এই উৎসব পালনের সন্ধ্যা ‘অল হ্যালোজ ইভ’ নামে পরিচিত ছিল, পরে যা হয়ে ওঠে ‘হ্যালোইন’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী হ্যালোইন এক দিনের উৎসবে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এ উৎসব সবচেয়ে জনপ্রিয়, যেখানে প্রাচীন ঐতিহ্য মেনেই আধুনিকভাবে দিনটি পালন করা হয়। তবে ছুটির দিন হিসেবে হ্যালোইন উদযাপন তুলনামূলকভাবে একেবারেই সেদিনের। আধুনিক তবে রীতিপালনের ঐতিহ্য সেই ক্লেটিক সামহাইন উৎসবের মতোই। সময়ের পরিক্রমায় ‘হ্যালোইন’ উৎসব  ইউরোপীয়দের সর্বজনীন সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে।

হ্যালোইন কী

অনেকেই হয়তো ভেবে থাকেন, হ্যালোইন উৎসবের এ দিনটি ভূতের মতো সাজতেই পালন করা হয়। কিন্তু আসলে তা নয়, মৃত আত্মাদের স্মরণেই পালন করা হয় দিনটি। তবে এর ঐতিহ্য ও রীতি পালনের জন্য একে ভুতুড়ে উৎসব হিসেবে মনে করে থাকেন অনেকে। বিশে^র প্রায় প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষই তাদের প্রিয় মৃত আত্মাদের স্মরণে নিজস্ব কিছু রীতি বা আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন। হ্যালোইনও যার ব্যতিক্রম নয়।

প্রতি বছরের ৩১ অক্টোবর পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী হ্যালোইন উৎসব। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দিবসটি পালিত হয়। তবে পশ্চিমা বিশ্বে জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করা হয় উৎসবটি। যেখানে নানা রীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের পালনের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আয়োজন করা, হ্যালোইন পোশাক পরে পার্টিতে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে কুমড়ো খোদাই করে লণ্ঠন জ¦ালানো, মুখোশ পরা, ভয় দেখানো, ভুতুড়ে গল্প বলা, ভৌতিক সিনেমা দেখা ও ভুতুড়ে সাজসজ্জায় ব্যস্ত থাকে সবাই।

১৭৪৫ সালের দিকে উৎপত্তি হয় হ্যালোইন শব্দের । ‘হ্যালোইন’ বা ‘হ্যালোউইন’ শব্দটি এসেছে স্কটিশ ভাষার শব্দ ‘অল হ্যালোজ’ ইভ থেকে। হ্যালোইন শব্দের অর্থ ‘শোধিত সন্ধ্যা বা পবিত্র সন্ধ্যা’। প্রাচীন এই ঐতিহ্যকে লালন করত খ্রিস্টান সম্প্রদায় । মূল থিম হলো, ‘হাস্যরস ও উপহাসের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া’। এই উৎসবের রাতকে ঘিরে রয়েছে অনেক ধরনের মিথ । আরও একটি প্রচলিত মিথও আছে, যেখানে বলা হয়েছে এই রাতে দেবতা সামান সব মৃত আত্মার পৃথিবীতে আহ্বান জানান। উড়ন্ত ঝাড়ুতে করে হ্যালোইন ডাইনি উড়ে বেড়ায় আকাশজুড়ে। কখনো বা তিনি কড়া নাড়েন বিভিন্ন বাড়ির দরজায়।

সামহাইন ঐতিহ্য

হ্যালোইনের উৎপত্তির ইতিহাস জানলে চমকে উঠতে পারেন অনেকেই। কারণ দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাস রয়েছে ভুতুড়ে এ উৎসবের। প্রাচীন কেল্টিক উৎসব সামহাইন (মূল উচ্চারণ সি-হোয়েন, সো-উইন, স-ওয়েন) থেকে যাত্রা শুরু হ্যালোইনের। সামহাইন ছিল ক্লেটিকদের নববর্ষের উৎসব, যার অর্থ ‘সামারস অ্যান্ড’ (গ্রীষ্মেও শেষ)। উৎসবটিকে তখন ফসল কাটার ঋতু ও শীতের আগমন উপলক্ষ করে উদযাপন করা হতো।

প্রায় ২০০০ বছর আগে বর্তমান আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও উত্তর ফ্রান্সের বেশির ভাগ অংশজুড়ে বাস করত কেল্টিক জাতি। নভেম্বরের প্রথম দিনকে তারা নববর্ষ বা ‘সো-উইন’ হিসেবে পালন করত। তারা মনে করত, গ্রীষ্মে ফসল কাটার শেষ এবং শীতের শুরুর সন্ধিক্ষণের ওই দিনে অন্ধকার নেমে আসে। বছরের ওই সময়েই বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যুও ঘটত। অবাক করা বিষয় হলো, তখন কেল্টিক জাতি বিশ্বাস করত, নতুন বছর শুরুর আগের ওই রাতে পৃথিবীর জীবিত মানুষ ও ওপারের জগতে থাকা মৃত আত্মাদের মধ্যের সীমানা অদৃশ্য হয়ে যায়। তাদের আরও বিশ্বাস ছিল, অশুভ ওই রাতে মৃতদের অতৃপ্ত আত্মা ভূত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে, যে রাতে মানুষের ক্ষতি করতে পারে তারা। তাই অতৃপ্ত ওই আত্মাদের অশুভ শক্তি থেকে নিজেদের বাঁচাতে ৩১ অক্টোবর রাতকে সামহাইন উৎসব হিসেবে উদযাপন করা শুরু করেছিল তারা।

এ উৎসব উদযাপনের জন্য প্রথমে ফসলের মাঠে জড়ো হতেন তারা। পরের লক্ষ্য ছিল দেবতাদের সন্তুষ্টি লাভ। সেজন্য ফসলের মাঠে আগুন লাগিয়ে ফসল ও পশুদের পুড়িয়ে মারতেন তারা। তখন তাদের পরনে থাকত পশুর চামড়ার পোশাক ও পশুর মাথার মুখোশ। নির্ঘুম রাত কাটাতে মাঠের চারপাশে বৃত্তাকারে একসঙ্গে তারা ঘুরতেন ও যপতেন মন্ত্র। এদিকে ফসলের মাঠের চারপাশে পবিত্র উৎসবাগ্নি জ¦ালিয়ে দিতেন বক্তরা। যাতে আসন্ন কনকনে শীত থেকে নিজেদের রক্ষা করা যায়। এভাবে উৎসব উদযাপন শেষ হলে তারা সন্ধ্যায় নিভিয়ে দেওয়া চুলার আগুন জ¦ালিয়ে দিতেন আবার।

সামহাইন রীতি

সামহাইন উৎসবের প্রাচীন ঐতিহ্য থাকলেও এর পালনের রীতি সম্পর্কে খুব অল্পই জানা যায়। কারণ খ্রিস্টান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গির্জাগুলো তখন  উৎসবকে খ্রিস্ট ধর্মের অংশ করে নিয়েছিল। ইতিহাসে এ-সংক্রান্ত যে তথ্য পাওয়া যায় তা আইরিশ সন্ন্যাসীদের কাছ থেকে এসেছিল। যারা তাদের খ্রিস্টান পূর্বপুরুষদের ইতিহাস লিখতে গিয়ে  রীতির উল্লেখ করেছিলেন। তবে এই ইতিহাস লেখার পেছনে অন্য খ্রিস্টান লেখকদেরও অবদান রয়েছে। তবে ইতিহাস থেকে জানা যায়, শীতের খাদ্য মজুদের জন্য তখন  উৎসব পালন করা হতো। যেখানে গবাদিপশু জবাই করা এবং ওই পশুদের হাড় উৎসবাগ্নিতে পোড়ানোর রীতি ছিল, যা পরে ‘বোন ফায়ার’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ওই উৎসবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্যরা এক জায়গায় সমবেত হয়ে পার্টি করতেন। পানাহারের ওই পার্টিতে আবার মৃত আত্মাদেরও স্বাগত জানানো হতো, যেখানে তাদের জন্য প্রিয় খাবার রাখার চর্চা ছিল বলে ধারণা করা হয়। মৃত মানুষদের ওই আত্মা ছাড়াও সেখানে অন্য আরও আত্মারও উপস্থিতি ঘটত।

৪৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ক্লেটিকদের বেশির ভাগ অঞ্চল রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর প্রায় ৪০০ বছর ধরে ক্লেটিক ভূখণ্ড শাসন করেছিল তারা।  তখন ক্লেটিকদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব  উদযাপনের সঙ্গে রোমানদের দুটি উৎসব এক হয়ে যায়। প্রথম উৎসবটি ছিল ফেরালিয়া, যা অক্টোবরের শেষের এক দিনে পালন করা হতো, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে রোমানরা তাদের মৃতদের মৃত্যুকে স্মরণ করতেন। আর দ্বিতীয় উৎসবের দিনে রোমানদের ফল ও গাছের দেবী পোমোনাকে সম্মান জানানো হতো। পোমোনার প্রতীক হলো আপেল।  উৎসব পালনের সময় সম্ভবত রোমান রীতির চর্চায় আপেলকে নিয়ে খেলা হতো, যা বর্তমানে হ্যালোইন উৎসবেও প্রচলিত আছে।

 অল সেইন্টস ডে

৬০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মে পোপ বনিফেস চতুর্থ সব খ্রিস্টান শহীদের সম্মান জানাতে প্যান্থিয়ন উৎসর্গ করেছিলেন। ক্যাথলিক ভোজের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তখন ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলের গির্জায় ‘অল মাটার্স ডে’ প্রতিষ্ঠা পায়। পরে নবম শতকে এসে পোপ গ্রেগরি তৃতীয় এই উৎসবে সব শহীদ ও সব সন্তুকে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং উৎসবের দিন পরিবর্তন করে ১৩ মে থেকে তা ১ নভেম্বরে নিয়ে আসেন। ১০০০ খ্রিস্টাব্দে মৃতদের স্মরণে ২ নভেম্বরকে ‘অল সোলস ডে’ দিবস প্রতিষ্ঠা করে গির্জাগুলো। তবে আধুনিককালে অনেকেই বিশ্বাস করে থাকেন, অল সোলস ডে দিবস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে খ্রিস্টানদের গির্জাগুলো তখন মৃত আত্মাদের স্মরণের ক্লেটিক উৎসবকে গির্জার ছুটির সঙ্গে এক করার চেষ্টা করেছিল। পরে ওই দিবসকেই  দিবসের মতো করে উদযাপন করা হয়। অল সেইন্টস ডে উদযাপনকে ‘অল হ্যালোজ’ বা ‘অল হ্যালোমাস’ বলা হয়ে থাকে। এই উৎসব পালনের আগের রাতে ক্লেটিকদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব সামহেইনের রাত শুরু হয়, যাকে ‘অল হ্যালোজ ইভ’ বলা হয়। পরে এই উৎসবই হ্যালোইনে রূপ পায়।

 আমেরিকায় হ্যালোইন

জানা যায়, হ্যালোইন ঐতিহ্যকে আমেরিকা ভূখণ্ডে নিয়ে এসেছিল উপনিবেশবাদীরা। ঔপনিবেশিক নিউ ইংল্যান্ডে (বর্তমানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাংশ) তখন সীমিত পরিসরে হ্যালোইন উদযাপন করা হতো। কারণ সেখানে তখন প্রোটেস্ট্যান্ট বিশ্বাসের কঠোর রীতি প্রচলিত ছিল। তবে মেরিল্যান্ড ও দক্ষিণাঞ্চলের উপনিবেশগুলোতে উৎসবটি সাধারণ রীতিতে পালন করা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঔপনিবেশিক আমেরিকায় বিভিন্ন ইউরোপীয় নৃ-তাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী ও আমেরিকান ভারতীয়দের বিশ্বাস ও রীতিনীতিগুলো স্যালাইনের সঙ্গে মিশে যেতে থাকে। যার ফলে উৎসবটি সেখানে একটি স্বতন্ত্র আমেরিকান সংস্করণে রূপ পেতে থাকে। প্রথম উৎসব উদযাপন করা হয়েছিল ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে। ‘প্লে পার্টি’ নামে ওই উৎসব ছিল সর্বজনীন। যেখানে প্রতিবেশীরা মৃতদের গল্প শোনাত, তারা একে অন্যের ভাগ্যের ভবিষ্যদ্বাণী করত এবং তার সঙ্গে চলত নাচ ও গান।

ঔপনিবেশিক ওই সময়ের হ্যালোইন উৎসবগুলোতে ভূতদের গল্প বলা ও সব ধরনের দুষ্টুমি করার রীতিও ছিল। এমনকি ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শরতের যেসব উৎসব হতো তা ছিলো বেশ সাদামাটা। কিন্তু তখনো দেশজুড়ে উদযাপন শুরু হয়নি হ্যালোইন। একই শতকের দ্বিতীয়ার্ধে পুরো আমেরিকায় নতুন অভিবাসীদের ঢল নামে। এদের মধ্যে সংখ্যায় বেশি ছিল আলু দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে আয়ারল্যান্ড থেকে আসা লাখো আইরিশ অভিবাসী। যারা পরে জাতীয়ভাবে হ্যালোইন উদযাপনকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল আমেরিকায়।

 ট্রিক অর ট্রিটিং

সেই সময় থেকে জনপ্রিয় হ্যালোইন উৎসবে ইউরোপীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরতে শুরু করে আমেরিকানরা । সেই সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার ও অর্থ সংগ্রহও করতো। ধারাবাহিক এই চর্চার ফলেই ‘ট্রিক অর ট্রিটিং’ (কৌশল নয়তো আপ্যায়ন) রীতি বর্তমানে ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ১৮ শতকের শেষের দিকে আমেরিকায় হ্যালোইন ছুটির দিনে পরিণত হয়। তখন শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক সবাই ঘটা করে হ্যালোইন উদযাপন শুরু করেন। পরের শতকের শুরুতে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দিনটি হ্যালোইন পার্টি হিসেবে উদযাপন করা সাধারণ রীতি হয়ে দাঁড়ায়, যে পার্টিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, মৌসুমি খাবার ও উৎসবমুখর পোশাক পরা গুরুত্ব পেত। এসব ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে তখন সংবাদপত্র ও স্থানীয় নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। জানা যায়, হ্যালোইন উদযাপনের সময় তখন নানা লেখার মাধ্যমে ও স্থানীয় নেতারা বাবা-মাদের ‘ভৌতিক’ বা ‘উদ্ভট’ কিছু করতে উৎসাহ জোগাতেন। যে রীতির চর্চার ফলেই ২০ শতকের শুরুর দিকে হ্যালোইনে  নানা কুসংস্কার ও ধর্মীয় মূল্যবোধ হারাতে শুরু করে।

 হ্যালোইন পার্টি

১৯২০ থেকে ১৯৩০-এর দশকে হ্যালোইন উৎসব অসাম্প্রদায়িক ছুটির দিনে পরিণত হয়েছিল। তখন সবার জন্য পদযাত্রা ও শহরজুড়ে পার্টির আয়োজন করতে দেখা যেত। সেই সময় থেকেই উৎসবটি উদযাপনকে কেন্দ্র করে অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাঙচুরের প্রচলন শুরু হয়েছিল, যা বন্ধে স্থানীয় স্কুল ও বাসিন্দারা চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়। ১৯৫০-এর দশকে এসে শহরের নেতাদের নেতৃত্বে হ্যালোইনের ভাঙচুর কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। তখন তরুণরা সরাসরি এই উৎসবে যোগ দিয়ে ছুটি উদযাপন করত। এ সময় ছোট শিশুদের বহুল অংশগ্রহণের জন্য হ্যালোইন উৎসবের পার্টিগুলো শ্রেণিকক্ষে বা বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ১৯২০ থেকে ১৯৫০-এর দশকেই হ্যালোইনের শতাব্দী প্রাচীন ‘ট্রিক অর ট্রিটিং’ রীতির চর্চা আবার প্রাণ পায়। তবে ঐতিহ্যবাহী এই রীতির চর্চা বেশ ব্যয়বহুল। এভাবেই আমেরিকায় হ্যালোইনের নতুন এক ঐতিহ্য জন্ম নিয়েছিল, যা দিনদিন আরও সমৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা বছরে ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে থাকেন হ্যালোইন উৎসব পালনে। সেখানে বড়দিনের উৎসবের পরই দ্বিতীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক উৎসব হলো হ্যালোইন।

বিশে^র বিভিন্ন দেশ বর্তমানে একই রীতি নয়তো নিজস্ব রীতি মেনে হ্যালোইন উদযাপন করে থাকে। মেক্সিকোতে দিনটি ‘ডে অব দ্য ডেড’, চীনে ‘টম্ব সোয়েপিং ডে’ হিসেবে পালিত হয়। বর্তমানে হ্যালোইন পালন করা নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। রাতটি উদযাপন করতে সেখানে প্রস্তুতি চলে মাসজুড়েই। এ ছাড়াও কানাডা, আয়ারল্যান্ড, পুয়ের্তো রিকোসহ এশিয়ার জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডেও পালিত হয় হ্যালোইন। এমনকি বাংলাদেশেও দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে হ্যালোইন উৎসব উদযাপন।