অস্তিত্বহীন ‘বৈরাবরী পার্টির’ নিবন্ধনের আবেদন

পার্টির অস্তিত্ব নেই তবু টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন মুখপাত্র সেজে বৈরাবরী পার্টির জন্য নিবন্ধনের আবেদন করেছেন। দলীয় কার্যালয় নেই, প্যাড নেই, জেলা-উপজেলা কমিটিও নেই। কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে সিরাজী সৈয়দ মনোয়ার হোসেন বৈরাবরী’র নাম রয়েছে; কিন্তু তিনিও আবেদনের ব্যাপারে কিছু জানেন না। তবু বৈরাবরী পার্টির জন্য নিবন্ধনের আবেদন করা হয়েছে। কিম আশ্চর্যম! 

পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন বৈরাবরী পার্টির যুগ্ম সম্পাদক ও মুখপাত্র হয়ে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন। তিনি মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামের এবাদুল্লাহর ছেলে।

বুধবার মির্জাপুরের হাঁটুভাঙ্গা বাজারে তার সঙ্গে কথা হলে বৈরাবরী পার্টি এবং নিবন্ধনের জন্য আবেদন সম্পর্কে জানা যায়। এই পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছয় জন। সভাপতি সিরাজী সৈয়দ মনোয়ার হোসেন বৈরাবরী। প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন বৈরাবরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট পীরজাদা আব্দুল আলীম অভি বৈরাবরী, প্রধান উপদেষ্টা পাবেল বৈরাবরী, উপদেষ্টা তানজিন বৈরাবরী এবং যুগ্ম সম্পাদক ও দলীয় মুখপাত্র পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন। মুখপাত্র ছাড়া সবার বাড়িই গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বৈরাবর গ্রামে।

পার্টির সভাপতি হিসেবে উল্লিখিত সিরাজী সৈয়দ মনোয়ার হোসেন বৈরাবরীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আলমগীরের (পার্টির মুখপাত্র) মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে।’ কুড়িপাড়া এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতি আলমগীর হোসেনকে নিরুৎসাহিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, ‘প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আলমগীর হোসেনের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে।’

দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যার নাম দেওয়া হয়েছে তিনি হলেন পীরজাদা আব্দুল আলীম অভি বৈরাবরী। তিনি বলেন, সৈয়দ আলমগীর তার মুরিদ। তিনি যে বৈরাবরী পার্টির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন এটা তিনি জানেন। তবে আব্দুল আলীম অভি কোথাও কোনো স্বাক্ষর করেননি বলে জানান।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেদার টেকনোলজিতে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেছেন। পরে তিনি মির্জাপুরের বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন। এখন তিনি কোনো পেশার সঙ্গে জড়িত নন। শুধু দল গোছানোর কাজ করছেন। চলতি সালের ১৬ জানুয়ারি  টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন তিনি। দলের নিবন্ধন না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়।

দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তরিকার পাশাপশি জনসেবাই দলের আদর্শ। দলের আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই। ব্যাংক হিসাব আছে কিন্তু তাতে কোনো টাকা নেই। আমাদের মূল সম্পদ হচ্ছে বৈরাবরী পীরের ভক্তকুল। কম্পিউটারে টাইপ করা গঠনতন্ত্র থাকলেও দলের মেনিফেস্টো নেই।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে আমাদের দল তিনটি আসনে নির্বাচন করবে। এগুলো হল টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) এবং গাজীপুরের দুটি আসন। বিএনপি নির্বাচনে করলে আমাদের দল বিএনপিকে সমর্থন দেবে।’

অর্থের অভাবে তার দল ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিতে পারছে না বলে তিনি জানান। তাই মির্জাপুরের কুড়িপাড়ার নিজ বসতবাড়ির ঠিকানা দিয়ে দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। দলের সেøাগান হচ্ছে ‘বৈরাবরী জিন্দাবাদ’। দলীয় প্রতীক হিসেব ‘হৃৎপি-’ চাওয়া হয়েছে।

বৈরাবরী পার্টি সম্পর্কে হাঁটুভাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী মনিন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘বৈরাবরী পার্টির কথা শুনেছি, কিন্তু কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।’

বেলতৈল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘আলমগীরকে আমি অনেকদিন ধরে চিনি। সে মেধাবী ছাত্র ছিল। আচার-ব্যবহারও ভালো। ইদানীং সে বৈরাবরী নামে একটি রাজনৈতিক দল নিয়ে কাজ করছে।’

আজগানা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হায়দারুজ্জামান সরকার বলেন, ‘বৈরাবরী পার্টির আলমগীরকে চিনি না। এই পার্টির কার্যক্রমও দেখিনি।’

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং কুড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এম এ কদ্দুছ বলেন, ‘সৈয়দ আলমগীর ইদানীং বৈরাবরী পার্টির নামে যে কার্যক্রম করছে তাতে মনে হয় তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে।’