১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারে দাম বাড়ল ৫১ টাকা

এক মাসের মাথায় ফের বাড়ল ভোক্তা পর্যায়ে বা রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম। প্রতি কেজি এলপিজিতে দর বেড়েছে ৪ টাকা ২৫ পয়সা। সেই হিসেবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের ৫১ টাকা দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫১ টাকা। অক্টোবরে যা ছিল ১২০০ টাকা।

অন্যদিকে অটোগ্যাসের দর লিটার প্রতি নির্ধারণ হয়েছে ৫৮ টাকা ২৮ পয়সা। নতুন দর গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

অক্টোবরে দাম কমার পর নভেম্বরে আবার বাড়ানো হলো এলপিজির দাম। ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ডলার ও জ্বালানির দামের সংকটের মধ্যে এলপিজির দাম ওঠানামা করছে।

গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, কামরুজ্জামান, মোকবুল-ই ইলাহি, আবু ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট বিইআরসির সচিব খলিলুর রহমান খান।

টানা কয়েক মাস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর মে মাস থেকে কমতে থাকে এলপিজি গ্যাসের দাম। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এপ্রিলে ১২ কেজির  এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৩৯ টাকায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর এলপিজির সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এ বছর।

এপ্রিল মাসে (সৌদি আরামকো) সর্বোচ্চ দর ওঠে প্রোপেন ৯৪০ ও  বিউটেন ৯৬০ ডলার। ২০১৪ সালের পর আর কখনো এত বেশি দরে বেচাকেনা হয়নি বাংলাদেশে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত জ্বালানিটি।

চলতি মাসে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম ৬১০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। প্রোপেন বিউটেনের অনুপাত ৩৫ ও ৬৫ গড়ে প্রতি টনের দাম পড়ছে ৬১০ ডলার।

২০২১ সালের ১২ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত এলপিজির দর ছিল কোম্পানিগুলোর ইচ্ছাধীন। ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল, আমদানি নির্ভর এই জ্বালানির সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে ভিত্তি মূল্য ধরা হবে। সৌদির দর ওঠানামা করলে ভিত্তিমূল্য ওঠানামা করবে। অন্য কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে। ঘোষণার পর থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে বিইআরসি।

এলপিজি আমদানিকারকরা অপারেশনাল কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে ১১টি কোম্পানি বিইআরসিতে লিখিত আবেদন দেয়। তাদের দাবি হলো, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জাহাজ ভাড়া বেড়েছে, অভ্যন্তরীণ রুটেও ভাড়া বেড়েছে।

সম্প্রতি কমিশনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছে তারা। সেখানে গণশুনানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোম্পানিগুলো আবেদন জমা দিলেই গণশুনানি হবে।