বঙ্গবন্ধুর লড়াইকে উদাহরণ হিসেবে নিলেন ইমরান

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে নিজের লড়াইকে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইমরান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে সত্যিকার মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন, আমিও বর্তমানে সেভাবেই লড়াই করছি।’

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ের পরও সাংবিধানিকভাবে দেশশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান কীভাবে দু’ভাগ হয়ে যায় সেটিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান।

গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের গুজরানওয়ালায় পিটিআইয়ের এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ইমরান খান এসব কথা বলেন বলে গতকাল বুধবার দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হয়েছে। 

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গুজরানওয়ালায় ইমরান পিটিআইয়ের সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ১৯৭০ সালে নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার কর্র্তৃত্ব দেওয়া হয়নি। এর ফলে পাকিস্তানের পূর্বাংশ তথা পূর্ব পাকিস্তান ‘বাংলাদেশ’ নামে স্বাধীন রাষ্ট্র হয়ে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইমরান খান তার নিজ দল পিটিআইকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করেছেন। একই সঙ্গে তার দাবি, বৃহত্তম এবং একমাত্র ফেডারেল দল হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের আহ্বানে নতুন নির্বাচন দিতে অস্বীকার করছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘সবাই জানেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার দল ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জিতেছিল। ক্ষমতা হস্তান্তর করার পরিবর্তে একজন চতুর রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগ এবং সেনাবাহিনীকে সংঘর্ষের পথে নামিয়ে দিয়েছিলেন... বর্তমানে নওয়াজ শরিফ এবং আসিফ জারদারি একই ভূমিকা পালন করছেন।’

এদিকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ইমরান খানের এই সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা। তারা বলেছেন, পাকিস্তানের সেই সময়কার অনেকেই বিষয়টির সঙ্গে একমত হবেন। আজ হোক কাল হোক তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমতা চাইতে হবে। ইমরান খানের এই বক্তব্য অবশ্যই রাজনীতির একটি ইতিবাচক ধারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহম্মদ রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা একটা ঐতিহাসিক বাস্তবতা। আজ তিনি বিরোধী রাজনৈতিক চেয়ারে বসে এ কথা বলছেন। তবে যদি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে বলতেন, তাহলে হয়তো তার মরদেহ পাওয়া যেত।’

ইতিহাসবিদ ও আন্তর্জাতিক জন-ইতিহাস ইনস্টিটিউটের সভাপতি অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, ‘ইমরানের এই বক্তব্য আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের যে ভুল ও অপরাধের কথা তিনি বলেছেন, এটার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের অপরাধের স্বীকৃতি পাওয়া যায়। আমি এ বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি এটা সত্য যে ইমরান সেই সময়ের পাকিস্তানের গণ্যহত্যার কথা বলেননি। আমাদের দাবি হলো এই বর্বরতার জন্য পাকিস্তান সরকারকে ক্ষমা চাইতে হবে । যেখানে দেশটির সরকার ও বিরোধী দল একমত থাকবে।’

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালি উর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৯৭১ সালে যে তারা বর্বরতা করেছে সেটি তাদের দেশের দায়িত্বশীলদের মুখ থেকে বের হওয়া মানে এই অপরাধ সম্পর্কে দেশটির মানুষের মধ্যে যে আলোচনা-সমালোচনা আছে সেটি স্পষ্ট। তবে জনগণের কথা চিন্তা করে পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে এরজন্য ক্ষমা চাওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।’

পাকিস্তানে নির্বাচনের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর থেকে লংমার্চ পালন করছে পিটিআই। ‘হাকিকি আজাদি মার্চ-২’ নামের এই লংমার্চ পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে মঙ্গলবার। আর দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এই লংমার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমরান খান।