পর্তুগাল ফুটবলের সেরা সাফল্য কী? প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ, ইউরো ২০১৬ জয়। গেল কয়েক আসর থেকেই পর্তুগাল থাকে ফেভারিটের তালিকায়। এর অন্যতম কারণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখেন পর্তুগালবাসী। তবে বিশ্বকাপে পর্তুগাল সব সময়ই ফেভারিট তালিকায় ছিল না। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানে না, পর্তুগিজরা বিশ্বকাপ নিয়মিত খেলছে ২০০২ আসর থেকে। তার আগে কেবল দু’বার (১৯৬৬ ও ১৯৮৬) বিশ্বকাপে খেলেছিল।
২০০০-০৬ পর্যন্ত পর্তুগাল দলটা গোল্ডেন জেনারেশনের তকমা পেলেও কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। সেই গোল্ডেন জেনারেশনের সঙ্গে ২০০৬-এ নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলা রোনালদো এখনো আছেন। তার অধিনায়কত্বেই পর্তুগাল ইউরো জিতেছিল। শেষ বিশ্বকাপ কি হাতে রাঙাতে পারবেন সময়ের সেরা ফুটবলার?
প্রথমবার ১৯৬৬ বিশ্বকাপ খেলা পর্তুগাল সেমিফাইনালে হেরেছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে। ওই বিশ্বকাপে ৯ গোল করে স্মরণীয় হয়ে আছেন কিংবদন্তির ইউসেবিও। অথচ এরপর পর্তুগালকে বিশ্বকাপ মূলপর্বে খেলতে অপেক্ষা করতে হয় ২০ বছর। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পেলেও গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তিন ম্যাচে এক জয়, দুই হারে; ২৪ দলের মধ্যে ১৭তম হয়ে।
পর্তুগাল আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরে ২০০২ সালে। তার আগে ২০০০ সালে তারা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় হয়েছিল। ফলে দলটিকে ঘিরে ছিল সমর্থকদের আশা। সেই বিশ্বকাপে নেভিগেটরসদের দলে ছিলেন লুইস ফিগো, রুই কস্তা, নুনো গোমেজ, ফার্নান্দো কুটোরা। তবু পর্তুগাল হতাশ করে। সেবারও গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায়। ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের স্বপ্নটা আরও বড় হয়। কারণ ২০০৪ ইউরোতে দারুণ খেলে রানার্সআপ হয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল পর্তুগাল। সেই বিশ্বকাপে অধিনায়ক ফিগোর দলে ছিলেন ২১ বছরের তরুণ রোনালদো। ততদিনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা রোনালদোর নাম-ডাক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। ৪০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের সেমিতে ওঠে পর্তগাল। জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কাছে হারে তারা। পরে জার্মানির সঙ্গে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হেরে চতুর্থ হয় পর্তুগাল। পরের তিন বিশ্বকাপের দুটিতে (২০১০ ও ২০১৮) দ্বিতীয় রাউন্ডে (শেষ ষোলো) শেষ হয় পর্তুগালের বিশ্বকাপ যাত্রা। ২০১৪-তে গ্রুপপর্ব থেকে বাদ পড়ে।
রোনালদোর বয়স বিবেচনায় এবারই রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। কিছুদিন আগে জানিয়েছেন ২০২৪ ইউরো খেলতে চান। তবে বিশ্বকাপের কথা কিছু বলেননি। সিআরসেভেন ভালো কিছু করে স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন কাতার বিশ্বকাপে এটাই স্বাভাবিক। অবশ্য সাম্প্রতিক ফর্মের কারণে রোনালদোকে সমালোচনা শুনতে হচ্ছে নিজ দেশেও। সেই সমালোচনার জবাব হতে পারে বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স।
আক্রমণে রোনালদো ছাড়াও এবার পর্তুগাল দলে থাকবেন জোয়াও ফেলিক্স, রাফায়েল লিয়াও, রাফা সিলভার মতো প্রতিভাবানরা। মিডফিল্ডে বের্নার্দো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনহা, রেনাতো সানচেজরা আছেন। তাদের ডিফেন্স এবার অনেক নিরেট জোয়াও ক্যানসেলো, দিয়েগো দালোত, নুনো মেন্ডেস, রুবেন দিয়াজ আর অভিজ্ঞ পেপে।
রোনালদো এখন লিগে নিয়মতি খেলোয়াড় নন। তবে নিজের দিনে যেকোনো প্রতিপক্ষকে মøান করে দিতে পারেন তা সবারই জানা। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করছেন বের্নার্দো সিলভা। ২৪ বছরের রাফায়েল লিয়াওকে ধরা হচ্ছে ভবিষ্যৎ সুপারস্টার হিসেবে।
কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্লে-অফ খেলে এসেছে মূল আসরে। নেশন্স লিগেও পর্তুগাল লিগ-এ’র দুই নম্বর গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ করেছে। এই গ্রুপ থেকে স্পেন গেছে ফাইনালসে। স্পেনের সঙ্গে পর্তুগালের পয়েন্টের ব্যবধান ছিল ১। সুপার কম্পিউটারের গবেষণা মতে পর্তুগাল আর্জেন্টিনার সঙ্গে ফাইনাল খেলবে। আবার অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে উরুগুয়ে, ঘানা, দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রুপেই অঘটনের শিকার হতে পারে পর্তুগাল।