দেশপ্রেম ও দক্ষতার ঘাটতির কারণে সম্প্রতি তিন পুলিশ সুপার ও দুই অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এটি চলমান প্রক্রিয়া। চাকরির ২৫ বছর হলেই দক্ষতা ও দেশপ্রেমের ঘাটতি থাকলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানেও এরকম ঘাটতি ছিল বলে ডিপার্টমান্ট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের এক সংলাপে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের দেশপ্রেমের ঘাটতি কোথায় এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি কাজ না করেন, দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে তো দক্ষতা ও দেশপ্রেমের ঘাটতি বলাই যায়।’
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘যদি রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় কিংবা গাড়িঘোড়া ভাঙচুর করা হয় সেই ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বসে থাকবে না।’ সরকারের মেয়াদের শেষদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যায়। এখন সেটা লক্ষ করা যাচ্ছে সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময়ই মনে করে নির্বাচনের মাধ্যমে পাবলিক ম্যান্ডেটে সরকার বদল হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা অনেক কিছুই দেখেছি, ষড়যন্ত্র দেখেছি। এগুলোর মাধ্যমেও ক্ষমতা বদল হয়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই মনে করেন সরকার বদল করার একমাত্র উপায় হলো নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট। সে জন্য সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হয়, আর সেই নির্বাচনকেই আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্বাস করে।’
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো একটু সক্রিয় হয়ে যায় কিংবা নানান ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, যাতে একটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ কিংবা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের সময় এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি নির্বাচনের সময়ে যার যার দলের কথা, ব্যক্তিগত প্রচারণা নিয়ে অনেক সময় অনেক কিছু হয়ে থাকে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো দল তার কর্মকাণ্ড করবেন। তাতে আমাদের আপত্তি নেই। আজকে আমি দেখলাম একজন সংসদ সদস্য বলছেন তার তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে কোনো এক জায়গায় যেতে। তিন ঘণ্টা লাগে কেন, হয় রাস্তার মধ্যে কোনো মিটিং হয় তখন, কিংবা খোঁড়াখুঁড়িসহ কিছু ডেভেলপমেন্টের কাজ হয়। যদি রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় কিংবা গাড়ি ভাঙচুর করে কিংবা জনগণের দুর্ভোগ তৈরির জন্য তারা যদি কিছু করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বসে থাকবে না। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে, এটাই স্বাভাবিক। এটা পৃথিবীর সব দেশেই হয়ে থাকে, আমাদের বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।’
যদি ভাঙচুর বা অন্য কোনো কিছু হয় তাহলে মামলা হবেই এমনটা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কালকে একজন বিচারপতির গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। বিচারপতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মামলা করেছেন। এ মামলা তো হবেই। এখানে রাজনীতির গন্ধ আনা উচিত নয়।’ পুরনো রাজনৈতিক মামলা সক্রিয় হচ্ছে কি না এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুরনো মামলা রয়ে গেছে। এগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে। পুরনো বলে কিছু না। পুরনো মামলা তো যুগ যুগ ধরে রাখব না। নতুন করে কিছু হচ্ছে না।’