পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সামরিক শাসকরা সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলার পথ চিরতরে রুদ্ধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সংবিধান প্রণয়ন করার পরপরই সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাঙালি জাতির। তার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন ভেঙে দেয় একাত্তরের পরাজিত শক্তি। মূলত তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সংবিধানকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলেছে। তারা সংবিধানবহির্ভূতভাবে দেশ চালিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তা-ই নয়, যে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, ৩০ লাখ মানুষ আত্মত্যাগ করেছিল, সেই জাতীয়তাবাদকে অন্ধকারে পাঠানো হয়েছিল। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে মুছে ফেলা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চরিত্র পাল্টে সেখানে পাকিস্তানি ভাবধারা যুক্ত করে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের তকমা দেওয়া হয়েছিল।’
আনিসুল হক বলেন, ‘সৌভাগ্য বাংলাদেশের, ২০১১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণকে আবারও ’৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতিতে ফিরিয়ে নিয়েছে। সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলার পথ চিরতরে রুদ্ধ করেছে। সেই সঙ্গে দেশে সাংবিধানিক ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়েছে।’