দেশে শেখ হাসিনার অধীনে আর কোনো নির্বাচন হবে না। এই সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন দিয়ে মানুষকে বোকা বানাতে চাচ্ছে। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। গতকাল শনিবার বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনকালীন সরকার, জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মী হত্যা, হামলা ও মামলা, লাগাতার লোডশেডিং, দুর্নীতি-দুঃশাসন, লুটপাট, জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ আয়োজন করে বিএনপি। সমাবেশের আগে সড়ক ও নৌপথে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হলেও সব বাধা পেরিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেয়।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ বর্গীর (লুটতরাজ প্রিয়) রূপ নিয়েছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে একবার নয়, যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখনই ভোট চুরি করে। তারা সন্ত্রাস করবে, চুরি করবেÑএটা হয় না। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। এখন আবার নতুন করে ভোট চুরির ফায়দা আঁটছে। নতুন বুদ্ধি এঁটে নতুন কমিশন দিয়ে আবার কৌশলে ভোট চুরির চিন্তা করছে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আওয়ামী লীগের চরিত্রের মধ্যে দুটি জিনিস আছে। একটা চুরি, আরেকটা সন্ত্রাস। ইভিএমে ভোট এসব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের কথা পরিষ্কার হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। আগে পদত্যাগ করতে হবে তাকে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং সংসদ বিলুপ্ত করে একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। সেই সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে এবং সেই কমিশন নতুন করে নির্বাচন করবে। নির্বাচন করে জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।
শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০৮ সালে মাথায় হিজাব দিয়ে এসে বলেছিল, আমি ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়াব। কত টাকায় চাল খাওয়াচ্ছে এখন? ঘরে ঘরে চাকরি দেব বলেছিল, দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ছেলেপেলেদের। কিন্তু প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। আর বলেছিলেন বিনা পায়সায় সার দেব। সেই সারের দাম এখন আমাদের সময় যা ছিল তার থেকে তিনগুণ বেশি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে খুব ঢাকঢোল পিটিয়েছেন। ঢাকার হাতিরঝিলে আতশবাজি ফুটল, বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পন্ন হলো দেশ। সেই বিদ্যুৎ এখন নেই। এরা এই বিদ্যুৎ চুরি করেছে। হাজার হাজার টাকা চুরি করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিয়েছে। একটা জায়গা নেই একটা জায়গা খুঁজে পাবেন না, যেখানে তারা চুরি করেনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মুক্তি চাই, এ থেকে পরিত্রাণ চাই। আমাদের এই আন্দোলন বিএনপির জন্য নয়; খালেদা জিয়ার জন্য নয়; তারেক রহমানের জন্য নয় কিংবা আমাদের নেতাদের জন্য নয়। এ আন্দোলন জাতি ও দেশের প্রয়োজনে, সমগ্র জাতিকে রক্ষার জন্য। তারা এখানে একটা একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। কিন্তু একটা খোলস রাখতে চায় গণতন্ত্রের। গত ১৪ বছর ধরে এরা বাংলাদেশের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে।
গণসমাবেশের প্রধান বক্তা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমাদের বলা হয়েছে পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। বিএনপির এই চারটি মিটিং হওয়ার পর কাদের সাহেব বলেন, আমরা পালাব না, জেলে যাব। আমি ওনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনি জেলে যাবেন স্বীকার করেছেন। পালান না পালান সেটা আপনার ব্যাপার, কিন্তু জেলে আপনি যাবেন নিশ্চিত।
বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, ড. আবদুর রহিম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর (বীর বিক্রম), জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ (বীর বিক্রম), আলতাব হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
সমাবেশে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জন্য মঞ্চে খালি চেয়ার : গণসমাবেশের মঞ্চে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জন্য খালি চেয়ার রাখা হয়। সমাবেশ মঞ্চের ঠিক মাঝখানে দুটি ফাঁকা চেয়ার রাখা হয়েছে। একটি চেয়ার খালেদা জিয়ার জন্য সাদা তোয়ালে দিয়ে আবৃত এবং অন্যটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য হলুদ তোয়ালে দিয়ে আবৃত।
শনিবার নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু হয়। মঞ্চে দুপুর ২টার আগেই আসেন সমাবেশের প্রধান অতিথি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আগামী ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ করবে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি শেষ হবে। এরপর নতুন কর্মসূচি আসবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।