ভারত ম্যাচের বিশ্বাস কাজে লাগবে পাকিস্তানের সঙ্গে!

এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোমাঞ্চের শেষ নেই। সুপার টুয়েলভ পর্বের শেষদিনও সেমিফাইনালের জায়গা নিয়ে লড়াই হচ্ছে। এতটাই হাড্ডহাড্ডি যে গ্রুপ ২ এর ৬ দলের ৫টিই আছে সেমির আশায়। এই লড়াইয়ের রেশ ধরে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। গত ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে জয়ের প্রান্ত থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। তা হলে পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো কিছু হবে না কেন! টি-টোয়েন্টি কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম তো বলেই দিলেন আমরা বড় দলকেও হারানোর খুব কাছে। শ্রীরামের চিন্তাটা এমন ভারতের সঙ্গে যদি ৫ রানের দূরত্ব হয় তবে আরেকটু এগিয়ে পাকিস্তানকে হারানো যাবে না কেন।

চিন্তার সমীকরণের সঙ্গে বাস্তবের মিল অবশ্য সামান্যই। যেমন এই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের সমীকরণ। বাস্তব বলছে ভারত আজ জিম্বাবুয়ের সঙ্গে জিতবে এবং ৮ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে যাবে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা দুর্বল নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চলে যাবে শেষ চারে। চার দলের শক্তি পার্থক্যের বিচারে এ দুই ম্যাচের রোমাঞ্চ কিছুটা কম। অবশ্য এ আসরে অঘটনের প্রমাণও আছে।

অঘটনের হিসাব বাদ দিলে আজ তিন ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর হবে পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচ। কাগজে-কলমে এ দুই দলেরই সেমিফাইনাল সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে হারতে হবে গ্রুপের আগের দুই দল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এর বাইরেও পাকিস্তান ও বাংলাদেশের এ ম্যাচ থেকে নেওয়ার অনেক কিছু আছে। বিশ্বকাপ জয়ে শেষ করার চ্যালেঞ্জ সবার আগে। সেমিফাইনাল স্বপ্ন প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় দুই দলই এই চেষ্টায় থাকবে। বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে রঙিন বিশ্বকাপটা আরও একটু রাঙিয়ে নেওয়ার। ২০০৭ থেকে এই বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৮ আসরে এই প্রথম সুপার টুয়েলভে জয় ও একাধিক জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। অথচ শুরুর আগে একটি জয়ের ব্যাপারেও সাহস করে বলার অবস্থা ছিল না। পাকিস্তানের সঙ্গে আজ জিতে গেলে তিন জয়ে বাংলাদেশের জন্য সাফল্যের বিশ্বকাপই বলা যাবে। শ্রীরাম অবশ্য দুই জয়েই এই আসরকে সফলতম মানছেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই বাংলাদেশের সেরা আসর। আমরা আগে কখনই সুপার টুয়েলভে দুটো ম্যাচ জিততে পারিনি। এবার দুটো ক্লোজ ম্যাচ আমরা জিতেছি। আমরা সাফল্যটা পেয়েছি। ছেলেদের এজন্য গর্বিত হওয়া উচিত।’

ক্রিকেটারদের এই গর্বের জায়গাটা আরও বাড়বে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলে। শ্রীরাম এই ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখছেন। ভারতর ম্যাচের পারফরম তাকে সেই সাহস জোগাচ্ছে, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে কেউ যদি বলত আমরা আজ ৫ রানে হারব তবে অবশ্যই দলের সবাই তা লুফে নিত। আমি মনে করি ভারতকে হারানোর সুযোগ ওই ম্যাচে তৈরি হয়েছিল। আমরা এতটা কাছে ছিলাম। সবাই বুঝেছে কী সুবর্ণ সুযোগ মিস করেছি। ওখান থেকে ছেলেরা অনেক আত্মবিশ্বাসও পেয়েছে। আমরা যদি টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে চ্যালেঞ্জ দিতে পারি তবে অন্য দলকে হারানো থেকে বেশি দূরে নেই।’

তবে পাকিস্তান দল হিসেবে ভারতের চেয়ে খুব পিছিয়ে নেই। এই সময়ে তাদের সেরা ওপেনিং জুটি ক্লিক করছে না। বোলিংয়ে সেরা পেসাররা গতির ঝড় তুললেও এশিয়া কাপের সেই খুনে ভাবমূর্তিটা নেই। এই সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশ। আগের ১৮ দেখায় ১৫ হারের অতীত ভুলে বিশ্বকাপে নিজেদের নতুন শুরুতে পুঁজি করবে সাকিব আল হাসানের দল। নিকট অতীতে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে মুখোমুখি হওয়া দুই ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানালেন শ্রীরাম, ‘আমরা জানি পাকিস্তান কী চ্যালেঞ্জ দিতে পারে। নিউজিল্যান্ডে ওদের সঙ্গে দুটো ম্যাচেই আমরা লড়াই করেছিলাম। দুই দলই দুই পক্ষের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে জানি। কাল (আজ) ভালো লড়াই হবে। আমরা যে অবস্থায় আছি, জিততে হলে এখান থেকে আর একটু ভালো করতে হবে।’

বাংলাদেশকে ভালো করার জন্য গত ম্যাচের পরিকল্পনায় হাঁটলেই হবে। পাকিস্তান ব্যাটারদের দমিয়ে রাখলে দারুণ ফর্মে থাকা তাসকিন আহমেদকে ব্যবহার করবেন সাকিব। হয়তো আবারও এই পেসারের চার ওভার একসঙ্গে টেনে দিতে পারেন। তবে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসাই ভালো হবে। গতবার শেষ দিকে তাসকিনের ওভার না থাকায় শরিফুল ইসলামকে টানতে হয়েছিল। এই ম্যাচে অবশ্য শরিফুলের বদলে স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের দলে ফেরার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া বোলিং ইউনিট আগের মতোই থাকতে পারে। ব্যাটিংয়ে লিটন দাশ অবশ্যই ওপেন করবেন। অ্যাডিলেডের ভালো পিচে আবারও তার ব্যাট থেকে ঝড়ো ইনিংসের আশা বাংলাদেশের। সেই শুরু পেয়ে দলকে টেনে নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে মিডল অর্ডারদের।

পাকিস্তানকে নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তার কারণ হতে পারেন শাদাব খান। এই অলরাউন্ডার হঠাৎ জ্বলে ওঠেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২২ বলে অভিষেক ফিফটি ও ১৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে একাই জয় এনে দিলেন দলকে। পাকিস্তানের পেস ও ওপেনিং ইউনিট ফর্ম হারালেও মিডল অর্ডারের সাফল্য বাংলাদেশকে সামলাতে হবে। ভারত ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টানা দুই হারের ধাক্কা সামলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় দিয়ে আত্মবিশ্বাসে ফিরেছে পাকিস্তান। ২০১৯ বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ছিল দলটির সঙ্গে। সেবারের মতো এই বিশ্বকাপের শেষের ফলটা একরকম না হলেই হয়।