ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি নির্ধারণ

সরকারি হাসপাতালে ১০০ বেসরকারিতে ৩০০ টাকা

এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে লাগবে ১০০ টাকা। বেসরকারি হাসপাতালে এ ফি ৩০০ টাকা। সরকার এ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

গতকাল রবিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে পর্যালোচনা’ শীর্ষক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু টেস্টের জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়া হবে ও বেসরকারি হাসপাতালে এই ফি হবে ৩০০ টাকা সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে এ ফি বলবৎ থাকবে।’

এর আগে ২০১৯ সালে দেশে সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করে দেয় সরকার। সে সময় বেসরকারি হাসপাতালে ফি নির্ধারণ করা হয় ৫০০ টাকা। এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাবের সময় সেখান থেকে সরে সরকারি হাসপাতালে ফি নির্ধারণ করা হলো। এতে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ফি ২০০ টাকা কমল ও সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১০০ টাকা নির্ধারণ হলো।

ডেঙ্গু পরীক্ষায় ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এখনো হাসপাতালগুলোতে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এতদিন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে হতো ও বেসরকারিতে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা ছিল। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারিতে একটি সামঞ্জস্য আনতে সরকার উভয় জায়গাতে ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। শুধু সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখনো হাসপাতালগুলোতে চিঠি দিয়ে জানানো হয়নি। চিঠি গেলে সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে। ডেঙ্গু শনাক্ত করতে এনএস-১ পরীক্ষার জন্য এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।’

ডেঙ্গুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রকোপ চলছে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর এবারই ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে আরও ৯০৮ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময় মারা গেছে আরও ৩ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত এ বছর ৪৩ হাজার ১০৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলো ও মারা গেছে ১৭০ জন। এর আগে ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল ও মৃত্যুও ছিল সর্বোচ্চ ১৭৯ জন। এ বছর এখনো দেড় মাসের বেশি সময় বাকি থাকতেই মৃত্যু ১৭০ জনে ও ভর্তি রোগী ৪৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রোগীর মধ্যে রাজধানীতে ৪৭৬ ও ঢাকার বাইরে ৪৩২ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩ হাজার ৩৬৮ জন রোগী। তাদের মধ্যে রাজধানীতে চিকিৎসা নিচ্ছে ২ হাজার ৪২ ও ঢাকার বাইরে ১ হাজার ৩২৬ জন।