বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। কারণ দেশের জনগণ সরকারের পতন ঘটিয়ে বিজয়ের বেশে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাজপথে আন্দোলনে রয়েছে। জনগণ খালেদা জিয়াকেও মুক্ত করবে।’ গতকাল রবিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
দুপুর ২টায় সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন। এরপর খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। তারা খালেদা জিয়াসহ অন্য নেতাদের মুক্তি ও তারেক রহমান দম্পতির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। সমাবেশে গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ যুবদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হন।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র উদ্ধারের চলমান আন্দোলনের কারণে বিএনপির ২৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সরকার মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এসব মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখা যায়নি। দেশের মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারেনি আর পারবেও না। তারেক রহমানকে দেশের জনগণ বিজয়ের বেশে জনগণ দেশে ফিরিয়ে আনবে। খালেদা জিয়াকে তারা মুক্ত করবে।’
গত শনিবার বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের দুটি চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেদিন সমাবেশে একজন বয়স্ক মানুষ তিন দিন ধরে শুয়ে ছিলেন, তার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, আপনি এত কষ্ট করে কেন এসেছেন? তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভালো মহিলা, বিএনপি ভালো দল, আমার ঘরে খাবার নেইবিএনপি ক্ষমতায় এলে আমার ভাতের ব্যবস্থা হবে। অন্য আরেকজন বুড়ো মহিলা সমাবেশে এসেছিলেন বহু কষ্ট করে, তার কাছে জানতে চাওয়া হলো আপনি কেন এসেছেন মা? বুড়ো মা বলেন, আমি পরিবর্তন দেখতে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগতিনি নাকি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন! গতকাল বরিশাল যাওয়ার পথে ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা করা হলো, অথচ তার বিরুদ্ধেই মামলা করা হলো। সারা দেশের মানুষ আজ জেগে উঠেছে। কোনো বাধাই কাজে আসছে না। এ লড়াই গণতন্ত্র উদ্ধারের লড়াই, এ লড়াই মুক্তির লড়াই। এ সংগ্রামে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে ও সকল রাজনৈতিক দলকে এক হতে হবে, জাতিকে এ ফ্যাসিস্ট সরকার থেকে উদ্ধার করতে হবে।’
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খেলা হবে। কার সঙ্গে খেলা হবে? বিএনপির সঙ্গে? পারবেন না। সেই খেলায় পরাজিত হবেন, কারণ দেশের সকল মানুষ বিএনপির সঙ্গে রয়েছে। দুর্নীতিবাজ সরকারের বিরুদ্ধে তারেক রহমান দেশের জনগণকে জাগিয়ে তুলেছেন। তাই আজকে তাকে দমাতে মামলার হিড়িক। এসবে কাজ হবে না।’
যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নার পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ফজলুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।
এখনই জেলে যাওয়ার কথা ভাবছেন কেন: সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে ‘যুগপৎ আন্দোলন ও রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের উত্তরণ’ ‘শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এখন জেলে যাওয়ার বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন কেন? আপনি কেন বলেনপালাব না, আমরা জেলে যাব। এগুলো আরও আগে ভাবা উচিত ছিল। আমরা আশা করেছিলাম তারা জনগণের চোখের ভাষা বুঝতে পারবে, তাদের কথাগুলো বুঝতে পারবে।’ নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জনসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি প্রমুখ।