কংগ্রেসের দলিত সভাপতির চ্যালেঞ্জ

কংগ্রেসের সভাপতি পদে সম্প্রতি নির্বাচিত হয়েছেন দলিত নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর এই পদ গান্ধীমুক্ত হলো। ভারতের আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে লড়াই করতে হলে অভিজাত শ্রেণি নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের রূপান্তর দরকার। দলিত নেতার পক্ষে দলের রূপান্তর কি আদৌ সম্ভব? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

সভাপতি নির্বাচন

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের গত অক্টোবরের সভাপতি নির্বাচনে জয়ী হন ঝানু রাজনীতিক মল্লিকার্জুন খাড়গে। প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যারিশমেটিক এমপি শশী থারুরের চেয়ে আট গুণ বেশি ভোট পান তিনি। ২৪ বছর পর এই প্রথম গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ কংগ্রেসের সভাপতি হলেন। ১৯৯৮ সালে দলটির তৎকালীন সভাপতি সীতারাম কেসরিকে পদে বসার দুই বছরের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই বছরই কংগ্রেসের সভাপতি হন ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী। টানা ১৯ বছর ওই পদে ছিলেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে সোনিয়া ও রাজীবের ছেলে রাহুল গান্ধী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কংগ্রেসের সভাপতি হন। কিন্তু দুই বছর পর ২০১৯ সালে ভারতের জাতীয় নির্বাচনে দলটি পরাজিত হলে এর দায় নিয়ে সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। রাহুলের পর তার মা সোনিয়া ২০১৯ সালের আগস্টে ফের কংগ্রেসের সভাপতি হন। ৮০ বছর বয়সী খাড়গে গান্ধী পরিবারের সদস্য না হলেও তিনি ওই পরিবারের একনিষ্ঠ ভক্ত ও অনুগত। কর্নাটকের মানুষ খাড়গেকে অপরাজেয় নেতা হিসেবে দেখে। কারণ ২০১৯ সালের একটি নির্বাচন ছাড়া আর কোনো নির্বাচনে হারেননি তিনি। এবারও কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনে তিনি যে হারবেন না, তা অনেকে বুঝতে পেরেছিলেন। খাড়গের মাথার ওপর গান্ধী পরিবারের আশীর্বাদের হাত যে ছিল! ১৮ মাস পর ভারতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে নির্বাচনে টেক্কা দিতে হলে এই কয়েক মাসের ভেতরে খাড়গেকে নিজের দল ঢেলে সাজাতে হবে, নয়তো নির্বাচনে জেতা কঠিন হবে। শুধু তাই নয়, কাঠামো ও সাংগঠনিকভাবে সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া কংগ্রেসে নতুন নেতা বের করে আনার কাজ তাকেই করতে হবে।

রাজনীতির যাত্রা 

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্নাটকের বিদার শহরে ১৯৪২ সালে দলিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ছাত্রাবস্থায় শ্রমিক সংগঠন করতেন। ১৯৬৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন খাড়গে। সে সময় কর্নাটকের পার্টি প্রধান ছিলেন দেবরাজ উরস। তার পরামর্শে ১৯৭২ সালে কর্নাটকের গুরমিতকাল আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়ান খাড়গে। ওই আসনে তখন উচ্চবর্ণের হিন্দুদের আধিপত্য ছিল। কেবল ১৯৭২ সাল নয়, পরপর ৯ বার ওই আসনে জেতেন খাড়গে। এমনকি কর্নাটকের চিতাপুর আসন থেকে দাঁড়ালে সেখানেও জয়ী হন তিনি। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইন্দুধারা হন্নাপুরা বলেন, ‘দলিত নেতা হিসেবে খাড়গের আবির্ভাব ঘটলেও অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদেরও কাছে টানেন তিনি।’ ২০০৯ সালে কর্নাটকের গুলবারগা আসনের প্রার্থী হয়ে প্রথমবারের মতো লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন খাড়গে। ২০১৪ সালেও একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জয় পান খাড়গে। তবে ২০১৯ সালের নির্বাচনে ওই আসনে বিজেপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান খাড়গে। ২০২১ সালে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা নির্বাচনে জেতেন তিনি। লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেন খাড়গে। এ ছাড়া ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে রেলমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী ছিলেন তিনি।    

চ্যালেঞ্জসমূহ

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার গত বছর তার দল সম্পর্কে বলেছিলেন, নেতা পরিবর্তিত হলেই পার্টি পুনরুজ্জীবিত হয় না। এর জন্য দরকার আগাগোড়া বিনির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ। এটি না করলে দলের গুণগত পরিবর্তন সম্ভব নয়। টনি ব্লেয়ারের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিজেপিকে হারাতে হলে কংগ্রেসকে আগের মতো চললে হবে না। এর আমূল পরিবর্তন দরকার। গত মাসে বিপুল ভোটে সভাপতি নির্বাচনে জয়ী খাড়গেকে এখন বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমত তাকে দলকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। এটি পরিষ্কার যে, মান্ধাতার আমলের মতো করে কংগ্রেসকে এখন পরিচালিত করা যাবে না। গৌরবোজ্জ্বল অতীত নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়া বা অহংকার করার অধিকার কংগ্রেস নেতাদের অবশ্যই আছে। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের নতুন কিছু হাজির করতে হবে। আজীবন তারা অতীতে বাস করতে পারেন না। কংগ্রেসের রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হতে হবে। হিন্দুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্নে সংখ্যালঘুদের অবস্থান কোথায়, এ নিয়ে খোদ কংগ্রেস নেতাদের মধ্যেই বিভ্রান্তি ও বিভক্তি আছে। দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এসব বিভক্তি, বিভ্রান্তি দূর করতে হবে। দক্ষিণ থেকে উত্তরের রাজ্য অভিমুখী চলমান ভারত জোড়ো পদযাত্রায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রান্তিক মানুষ, অ্যাক্টিভিস্ট, ব্যবসায়ী, শ্রমিক থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। কিন্তু এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে কংগ্রেস কী বার্তা দিতে চাইছে, তা পরিষ্কার নয়। এখন পর্যন্ত বিকল্প অর্থনৈতিক ও সামাজিক মডেল হাজির করতে পারেননি দলটির নেতারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনার মধ্যেই রাজনৈতিক কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রেখেছেন তারা।  

খাড়গের সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনগণকে বোঝানো, তিনি গান্ধী পরিবারের প্রতিনিধি নন। তার কর্মকাণ্ডে যদি মানুষের এই ধারণা হয় যে, কংগ্রেসের সভাপতির আদতে কোনো ক্ষমতা নেই, তিনি ওই পরিবারের হাতের পুতুল, তাহলে তা কংগ্রেস বা খাড়গে কারোর জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না। গান্ধী পরিবারের প্রভাব থেকে কীভাবে নিজের সিদ্ধান্তকে দূরে রাখবেন, সেই কৌশল খাড়গেকেই নিতে হবে। সোনিয়া ও রাহুল জানেন, ভবিষ্যতে খাড়গে ও তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। খাড়গে ও গান্ধী পরিবারকে অবশ্য এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে সচেতন মনে হচ্ছে। সম্প্রতি রাহুল বলেছেন, দলের সভাপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং সব নেতাকে তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।        

কংগ্রেসের অন্য নেতাদের মতো খাড়গেরও ধারণা, তাদের ছাড়া কোনো বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য সম্ভব নয় এবং এই জোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে কংগ্রেসই। এই ধারণা যে বর্তমান সময়ে অচল, তা দলটির নেতাদের বোঝা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের অনেক আঞ্চলিক দল জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। খাড়গের চ্যালেঞ্জ হলো ওই দলগুলোর সঙ্গে বিভেদ কমানো, প্রতীকীভাবে হলেও। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার, মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব থ্যাকারেসহ অন্য আঞ্চলিক নেতাদের নিয়ে কংগ্রেস ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) পুনর্গঠন করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত খাড়গেকেই নিতে হবে। সোনিয়া গান্ধী এ মুহূর্তে মৃত প্ল্যাটফর্মটির চেয়ারপারসন। ইউপিএকে ফের দাঁড় করাতে হলে গান্ধীদের প্ল্যাটফর্মটির নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতি খাড়গের জন্য বেশ জটিল। কংগ্রেস নেতাদের একাংশ মনে করে, বিরোধী জোট গঠন করা দরকার তবে নেতৃত্বে তারা থাকবে না। আরেক অংশ চায়, বিরোধী ঐক্য গড়ে তুললে তারাই নেতৃত্ব দেবে। এই বিষয়ে ফয়সালা খাড়গেকেই করতে হবে।             

দলের তরুণ ও বয়স্ক নেতাদের মধ্যে দূরত্ব কমানোও খাড়গের আরেকটি চ্যালেঞ্জ। অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি) কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ। এই পরিষদে সব বয়সী নেতা রয়েছেন। দলের সভাপতি নির্বাচনে এই নেতারাই খাড়গেকে সমর্থন করেন। কিন্তু ভারতের অনেক রাজ্যে তরুণ ও বয়স্ক কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে বিরোধ প্রকট। বিশেষ করে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ৭১ বছর বয়সী অশোক গেহলট ও ৪৫ বছর বয়সী রাজ্যের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটের মধ্যে লড়াই  চলছে তো চলছেই। কেবল রাজস্থান নয়, কেরালা, তেলেঙ্গানা, গোয়া, পাঞ্জাবসহ অন্য রাজ্যেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। 

রূপান্তর নিয়ে সংশয়

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাস করা দলিতসহ অন্য প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর একসময় কংগ্রেসের ব্যাপক প্রভাব ছিল। কিন্তু তাদের ওপর গত কয়েক দশকে বহুজনবাদী আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলের প্রভাব বেড়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ভারতের উত্তরাঞ্চলে বহুজন সমাজ পার্টি বা রাষ্ট্রীয় জনতা দল, জনতা দল (ইউনাইটেড), সমাজবাদী পার্টির মতো বামপন্থি দলের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি, তেলুগু দেশম পার্টি বা বিজু জনতা দলের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে উচ্চবর্ণ পরিচালিত রাজনৈতিক শক্তির চেয়ে ভারতের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নেতৃত্বাধীন রাজনীতির দিকে ঝুঁকতে দেখা গেছে। খাড়গে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, দলিত অধ্যুষিত অঞ্চলে কংগ্রেস এবার কি তার হারানো প্রভাব ফিরে পাবে। বহুজনের রাজনীতি বিষয়ে পণ্ডিত ব্যক্তিরা এ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। দিল্লির জওয়াহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হরিশ ওয়ানখেদে বলেন, ‘সত্তরের দশক পর্যন্ত কংগ্রেসকে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের পার্টি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পরে অভিজাত শ্রেণির নেতৃত্বাধীন এই দল প্রান্তিক সম্প্রদায়ের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয় ওই জনগোষ্ঠীর মানুষ। কয়েক বছর ধরে কংগ্রেস প্রান্তিক সম্প্রদায় ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছে। খাড়গের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া তার একটি লক্ষণ। এর আগে পাঞ্জাবকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দলিত নেতা চিরঞ্জিৎ সিং চান্নিকে দেয় কংগ্রেসের হাই কমান্ড। তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু কংগ্রেসকে হতাশ হতে দেখা যায়নি। রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ের দিকে যদি তাকাই, তাহলে দেখা যাবে, সেখানে কংগ্রেস সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতারাই। এ ছাড়া অন্য রাজ্যের শীর্ষ পদে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের নেতাদের মনোনয়ন দিচ্ছে কংগ্রেস। খাড়গেকে সভাপতি করে কংগ্রেস তার রাজনৈতিক কৌশলের সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন দেখাল। কেবল তৃণমূল নয়, শীর্ষ পর্যায়েও যে কংগ্রেস গণতান্ত্রিক চর্চা করতে চাইছে, এই বার্তাই জনগণের কাছে দলটি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে এখন পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়েছে।’

এদিকে কর্নাটকের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক শিবসুন্দর বলেন, ‘কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংহতির জন্য খাড়গে ছিলেন সেরা বাজি। কিন্তু টেকসই রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে দলটিকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে আপাদমস্তক রূপান্তরিত হতে হবে। দলিত নেতা খাড়গেকে নির্বাচিত যদি প্রতীকী অর্থে করা হয়, তাহলে খুব বেশি  দূর যেতে পারবে না কংগ্রেস। আমি মনে করি, কংগ্রেসের পক্ষে নিজেকে ঢেলে সাজানো সম্ভব নয় কারণ সুবিধাভোগী শ্রেণি ও উচ্চবর্ণের প্রতি দলটি বিশেষভাবে দুর্বল। এক্ষেত্রে ২০০০ সালের একটি ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে। সে বছর কর্নাটকের কোলার জেলার কামবালাপল্লী গ্রামে সাত দলিতকে পুড়িয়ে মারে উচ্চবর্ণের কয়েকজন। সে সময় কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন খাড়গে। তিনি কিছুই করতে পারেননি। রাজনৈতিক প্রতীকবাদ যে কোনো দলের রূপান্তর ঘটাতে পারে না, কামবালাপল্লী হত্যাকাণ্ড তার একটি উদাহরণ।’ কংগ্রেসের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে খাড়গে দলিতসহ ভারতের আপামর জনগণের জন্য আদৌ দলের ভেতরে আক্ষরিক অর্থে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে।