৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে দুর্ভাগা নেদারল্যান্ডস

ফুটবল বিশ্বকাপে সবচেয়ে দুর্ভাগা দল টোটাল ফুটবলের জনক নেদারল্যান্ডস। তিনবার ফাইনাল খেলে প্রতিবারই রানার্সআপ হতে হয়েছে তাদের। ক্রুইফ-নেসকেন্সের সময় ১৯৭৪ ও ১৯৭৮-এ যেমন হয়েছে, তেমনি হয়েছে ফন পার্সি-রোবেন-স্নাইডারদের সময় ২০১০-এ। ২০১৪-তে সেমিফাইনালে খেলেছিল অরেঞ্জরা। আবার ২০১৮-এ খেলতে পারেনি মূলপর্বেই। এক বিশ্বকাপ পর আবার তারা চূড়ান্তপর্বে। 

বাছাইয়ে জি গ্রুপ শীর্ষে থেকে কাতারের টিকিট নিশ্চিত করে। ১০ ম্যাচের সাতটিতে জয়, দুটি ড্র, একটি হার। তুরস্ক, নরওয়ের মতো দল ছিল ডাচদের গ্রুপ সঙ্গী। এবারের নেশন্স লিগেও তাদের ফলাফল দারুণ। বেলজিয়াম, পোল্যান্ড ও ওয়েলসের গ্রুপে পাঁচ জয়, একটি ড্র করে শীর্ষে থেকে ফাইনালসে উঠেছে তারা। ডাচদের এমন দারুণ পারফরম্যান্স কোচ লুই ফন গালের অধীনে। আট বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপে এই ফন গালের অধীনেই সেমিতে উঠেছিল নেদারল্যান্ডস। সেবার কোয়ার্টারে ফন গাল যা করেছিলেন সেটি দীর্ঘদিন ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের শেষ দিকে রিজার্ভ গোলকিপার টিম ক্রুলকে গোলবারের নিচে দাঁড় করান তিনি। কোস্টারিকার সঙ্গে ম্যাচটি টাইব্রেকারে ৪-৩ এ জিতেছিল নেদারল্যান্ডস। ক্রুল ঠেকিয়েছিলেন দুটি শট।

ডাচরা বিশ্বকাপে কোন ফরমেশনে খেলবে সেটিও ভাবনার বিষয়। কারণ ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলে নেদারল্যান্ডস ইউরো ২০২০-এ বেশি দূর যেতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ জিতলেও শেষ ষোলোতে চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে হেরে বিদায় নেয় ডাচরা। গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক কাতার, সেনেগাল ও ইকুয়েডর।

তবে ডাচ দলটি ভারসাম্যপূর্ণ বলাই যায়। তাদের ২৬ জনের বিশ্বকাপ মূল স্কোয়াডে ডিফেন্সে থাকতে পারেন ভার্জিল ফন ডাইক, নাথান একে, মাতিয়াস ডি লিখট, ডেনজেল ডামফ্রিজ, টাইরাল মালাসিয়ার মতো খেলোয়াড়। মিডফিল্ডে ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ং, ডেভি ক্লাসেন, মার্টিন ডি রুন, জাভি সিমন্সরা। ফরোয়ার্ড লাইনে মেম্ফিস ডিপে, স্টেভেন বের্জউইন, কোডি গ্যাকপো, লুক ডি ইয়ংরা।

ডাচদের মূল গোল স্কোরার ডিপে। তবে এই মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না তেমন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে খেলেছেন মাত্র ৩ ম্যাচ, তাও ৩১ মিনিট। ফল গাল এর আগে জানিয়েছিলেন তিনি খেলার মধ্যে থাকাদের স্কোয়াডে নিতে পছন্দ করবেন। তবে ডিপের বেলায় যে হিসাবটা ভিন্ন তাও জানান। জাতীয় দলের হয়ে ডিপের রেকর্ড বেশ ভালো। ৮১ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন তিনি। এ বছর জাতীয় দলের হয়ে ৬ ম্যাচ খেলে চার গোল করেছেন।

নেদারল্যান্ডসের দুর্বলতা বলতে গেলে দলটির অনভিজ্ঞতা। দলটির অধিনায়ক ফন ডাইক বড় কোনো টুর্নামেন্ট খেলেননি। ২০২০ ইউরো মিস করেছিলেন তিনি ইনজুরিতে। ২০১৬ ইউরো ও ২০১৮ বিশ্বকাপে ছিল না ডাচরা। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের অন্যতম দুর্বলতা হতে পারে তাদের গোলকিপার।

বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ৫০ ম্যাচ খেলে ২৭টি জিতেছে, ১২টি ড্র করেছে। হার ১১টি। বিশ্বকাপের মঞ্চে ডাচরা গোল করেছে ৮৬টি, হজম করেছে ৪৮টি। রাশিয়া বিশ্বকাপে উঠতে না পারার ব্যর্থতা এবার ডাচরা কতদূর গিয়ে পূরণ করে সেটিই দেখার। নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এবারের দলটির অনেক দূর যাওয়ার আশা করা যায়।