তথ্য হালনাগাদ হলে নীতি নির্ধারণে সুবিধা

অনেক তথ্যের জন্য বিবিএসের ওপর নির্ভর করতে হয়। এর বড় কারণ হলো বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্য-উপাত্ত অন্য কেউ দেয় না। লেবার ফোর্স সার্ভে, ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ সার্ভে, জিডিপি, হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে এগুলো প্রতিনিধিত্বশীল তথ্য-উপাত্তের উৎস। এসব থাকে বিবিএসের কাছে।

আমাদের তাদের কাছেই যেতে হয়। আমরা সবসময় জাতীয়ভিত্তিক তথ্য দিতে পারি না। কারণ তা অনেক সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। তাই তাদের তথ্যের জন্য আমরা অপেক্ষা করি।

কিন্তু দেখা যায়, লেবার ফোর্স সার্ভে হয়েছে কয়েক বছর আগে, ২০১৭ সালে। খানা আয়-ব্যয় জরিপ হয়েছে ২০১৬ সালে। এতে সমস্যা হয়। হালনাগাদ তথ্য না পেলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কী তা জানতে অসুুবিধা হয়, এটা হচ্ছে প্রথম কথা। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, গবেষণা করতে গেলে বেশি অসুবিধা হয়। তৃতীয় কথা হচ্ছে, সবচেয়ে বড় সমস্যা সরকারের; তথ্য যদি হালনাগাদ না থাকে তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

আমি মনে করি, বিবিএসকে প্রযুক্তিগতভাবে, মানবসম্পদে বা অর্থায়ন করে শক্তিশালী করলে নীতিনির্ধারকদের উপকার হবে; আর আমাদের মতো গবেষকদেরও কাজে লাগবে প্রতিষ্ঠানটি। আইএমএফ বলছে, ‘তোমরা কোয়ার্টারলি জিডিপি হিসাব করো।’ আমাদের দেশের বার্ষিক জিডিপির ফাইনাল তথ্য পেতেই অর্থবছরের পাঁচ-ছয় মাস পার হয়ে যায়। প্রথমে একটি প্রাক্কলন করে, তারপর বাজেটের সময় একটি প্রভিশনাল রিপোর্ট দেয়। তারপর অক্টোবর-নভেম্বরে আমরা পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাই। এটা অবশ্যই, আমি বলব, আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনৈতিক শুমারি ও হাউজহোল্ড বা খানা জরিপ অবশ্যই আমাদের বিশ্লেষণ ও গবেষণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আমরা তখন অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতে গবেষণা করি। অথবা অন্য যেসব জরিপ আছে, সেগুলো হয়তো দেশভিত্তিক নয়, বা অন্য সংস্থা যদি কিছু করে সেগুলো ব্যবহার করি। সাধারণত আমরা এগুলোকে প্রক্সি ইন্ডিকেটর বলি। যেমন আমার যদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথের হালনাগাদ তথ্য না থাকে তাহলে আমি দেখি টার্ম-লোন কত ডিসভার্স হয়েছে; বিদ্যুতের ব্যবহার কতটুকু হয়েছে। এগুলোর হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়। তখন সেগুলো দিয়েই আমরা চেষ্টা করি আমাদের বিশ্লেষণ করতে। তবে বিবিএসের হালনাগাদ তথ্য থাকলে আমাদের তো উপকার হয়ই, সবচেয়ে উপকার হয় সরকারের নীতিনির্ধারকদের।

জিডিপি বিভিন্ন দেশে কোয়ার্টারলি হয়, আমাদেরও তা-ই করা দরকার। খানা জরিপ প্রতি বছরই করা উচিত। এতে করে সরকার জানতে পারবে দরিদ্রতা সূচক কোন দিকে যাচ্ছে, অসমতা কোন দিকে যাচ্ছে। লেবার ফোর্স সার্ভে কয়েক বছর পর না করে কোয়ার্টারলি করলে ভালো হবে। দেখা গেল, পর পর চারটি সার্ভে করে আর করা হলো না। ফলে হালনাগাদ তথ্য নেই। আরেকটি ব্যাপার হলো, দরিদ্রতার যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে সেই ডাটা ব্যবহার করার মতো নয়। এসব জায়গায় অবশ্যই আমাদের সংহত ভিত্তি তৈরি করার দরকার আছে। 

ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)