প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে পাঁচটি পেঁয়াজ ও ছয়টি কাঁচামরিচ চুরির দায়ে এক নারীকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার রাত ২টা থেকে সোমবার ভোর ৪টা পর্যন্ত যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের দোগাছিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারী যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় ৬ নারী ও পুরুষকে আটক করেছে।
স্থানীয় সাজিয়ালি ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, নির্যাতনের শিকার জোহরা খাতুন কুটি বেগম দোগাছিয়া গ্রামের ভ্যানচালক সোহরাব হোসেনের স্ত্রী। প্রতিবেশী মুনছুর আলীর পরিবার চুরির অভিযোগে তাকে আটক করে রবিবার রাত ১২টার দিকে। তারপর গাছে বেঁধে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেয়। এ ঘটনায় মামলা হবে। এখন পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুটি বেগম জানান, তিনি তার নাতির জন্য পাশের আব্দুলপুর গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন কবিরাজের বাড়ি থেকে সরিষার তেল পড়ে নিয়ে আসছিলেন। প্রতিবেশী মুনছুরের বাড়ির ওপর দিয়ে আসার সময় মুনছুরের ছেলে আল আমিন, জাহিদুল, হারুনসহ তিনজন নারী তাকে ধরে গাছে বেঁধে মারধর করতে থাকে। এ সময় তারা বলে তাদের বাড়ি থেকে যে মরিচ, পেঁয়াজ ও তেল চুরি হয় তা তুমি চুরি করেছ। এ কথা বলে আরও মারধর করে ও মাথার চুল কেটে দেয়।
মুনছুরের ছেলে আল আমিন বলে, কুটি বেগমকে তাদের রান্নাঘর থেকে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ চুরির সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। তার কাছে ৫টি পেঁয়াজ ও ৬টি কাঁচামরিচ পাওয়া যায়। বেশ কয়েক দিন ধরে তাদের বাড়ি থেকে ঝাল (মরিচ), পেঁয়াজ ও তেল চুরি হচ্ছে।
কুটি বেগমের স্বামী সোহরাব হোসেন জানান, আটকের পর তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকে কয়েকজন। পরে তার মাথার চুল কেটে দেয় তারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে প্রতিবেশীদের কয়েকজন ভোর ৪টার দিকে তার বাঁধন খুলে দেন।
কুটি বেগমের ভাইপো দুলাল মিয়া বলেন, সামান্য চুরির অভিযোগ এনে অভিযুক্তরা আমার ফুফুকে যেভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মারধর ও নির্যাতন করেছে তা অমানবিক। তিনি আরও জানান, অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আহমেদ তারেক শামস বলেন, ওই নারীর শরীরে মারপিটের চিহ্ন রয়েছে তবে গুরুতর নয়।
সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সেলিম হোসেন বলেন, খবরটি শুনেই দোগাছিয়া গ্রামের ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে সোমবার বিকেলে। আটকরা হলোÑ হারুন গাজী, আল আমিন ও তার স্ত্রী কেয়া, জাহিদুলের স্ত্রী চায়না ও তার ছেলে রিয়াদ এবং আলমগীরের স্ত্রী সীমা।
চূড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, চুরির অপবাদে একজন মানুষকে এভাবে মারধর ও নির্যাতন করা আইনের পরিপন্থী। তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, একজন মানুষ অপরাধ করলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে পারত। কিন্তু চুরির অভিযোগে একজন মহিলার সঙ্গে যা করা হয়েছে তা জঘন্য।