কিশোরগঞ্জে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষ হয়।
এদিকে ঝিনাইদহে বিএনপি ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গতকাল দুপুরে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল কিশোরগঞ্জে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে যোগদানের জন্য দলটির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে অফিসের দিতে আসতে থাকলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের লাঠিচার্জ, ফাঁকা গুলি ছুড়লে নেতাকর্মীরা পিছু হটে।
এতে জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুশতাক আহমেদ শাহীন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জোবায়েরসহ ১৮জন আহত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দাউদ জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল আমিন হোসাইন জানান, বিএনপি নেতাকর্মীদের ইটপাটকেলের আঘাতে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দাউদসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে ঝিনাইদহে গতকাল দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস উপলক্ষে সরকারি কেসি কলেজ থেকে একটি মিছিল বের করে জেলা ছাত্রলীগ। অপরদিকে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাব চত্বরে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।
ছাত্রলীগের মিছিলটি শহরের পুরাতন ডিসি কোর্টের সামনে পৌঁছালে অপর দিক থেকে আসা বিএনপি’র মিছিলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিছু হটে যায়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরে পোস্ট অফিস মোড়ে অবস্থান করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা যুবলীগ নেতার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
বিএনপি শহরের মডার্ন মোড়ে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আশফাক মাহমুদ জন বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। সেই সঙ্গে আমার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ জানান, বিএনপির শান্তিপূর্ণ প্রোগ্রাম করছিলাম। সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। যুবলীগ নেতার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাশার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।