জামালপুর জেলার ইসলামপুরের কাছিমারচর-বকশীগঞ্জ সড়কে একটি হেলে পড়া সেতু দুই বছরেও সংস্কার না করায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। হেলে পড়া সেতুর পাশে একটি মাটির রাস্তা তৈরি করা হলেও তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। মানুষ ও ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের বন্যায় ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের সভারচর যষ্টিবাড়ি এলাকার সেতুটি একদিকে হেলে পড়ে। এতে ইসলাম ও বকশীগঞ্জ উপজেলার প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম এ রাস্তাটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ পথে কামালপুর স্থলবন্দরের মালামাল পরিবহনও বন্ধ রয়েছে। অস্থায়ীভাবে তৈরি মাটির সড়কটি দিয়ে ছোট ছোট যানবাহন চলাচলের সময় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে দুই উপজেলার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ পথে গোয়ালেরচর উচ্চবিদ্যালয়, সভারচর উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। সেতুটি মেরামত না করায় এসব শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন এ সড়কে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। হেলে পড়া সেতুর পশ্চিম পাশ দিয়ে একটি মাটির সড়ক তৈরি করা হয়েছে। এবড়োখেবড়ো মাটির সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে যানবাহন ও মানুষ।
ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মালমারা এলাকার খোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে বন্যায় সেতুটি হেলে পড়েছে। এখন যানবাহনসহ সাধারণ মানুষ চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি করার দাবি জানাই।’
মলগিরি এলাকার অটোরিকশাচালক লিটন মিয়া বলেন, ‘ইসলামপুর-বকশীগঞ্জ সড়কে অটোরিকশা চালাই। সেতুটি না থাকায় খুব সমস্যা। পাশ দিয়ে মাটির রাস্তা করা হয়েছে। মাটির রাস্তা বৃষ্টি আর বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। সেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে সব সময় একটা আতঙ্ক কাজ করে।’
জামালপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি ২০১৩ সালে নির্মাণ করা হয়। দুই বছর আগে বন্যায় সেতুটি কাত হয়ে গেছে। সেটা প্রজেক্টের আওতায় নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’