যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ তীব্র লড়াই

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকেই শুরু হয় দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন ও সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরও নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। গতকাল টানা ১২ ঘণ্টা চলে ভোটগ্রহণ। অবশ্য ভোটের ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক দিন। তবে জরিপ বলছে, ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে যাচ্ছে এই ভোটের মাধ্যমে।

সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন হয়ে থাকে। ওই নির্বাচনের দুই বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর মাধ্যমে বোঝা যায় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কতটা জনপ্রিয়। এবার দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক অপরাধ ও অভিবাসন সংকট নিয়ে চাপে থাকা বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জনপ্রিয়তার অবস্থা কেমন সেটা ফুটে উঠবে ভোটের ফলে। পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারবেন কিনা তাও বোঝা যাবে এই ফল থেকে।

যদিও এই নির্বাচনে জো বাইডেনের ওপর কোনো ব্যালট হচ্ছে না। তবে এই নির্বাচন প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ড এবং দেশের বর্তমান হালচাল সম্পর্কে পরোক্ষভাবে ভোটারদের মতামত প্রকাশের সুযোগ এনে দেয়। পাশাপাশি এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আইনসভা এবং গভর্নরের অফিসগুলোকে কে নিয়ন্ত্রণ করবে।

বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তবে এই নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই রিপাবলিকানদের কাছে চলে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি ও সিএনএনসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, এই ভোট আসলে প্রেসিডেন্টের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। বাইডেন ভবিষ্যতে সহজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন, নাকি প্রতিপদে রিপাবলিকানরা তাকে আটকে দেবে সে ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। যদিও মধ্যবর্তী নির্বাচনে হোয়াইট হাউজে যারা থাকেন তাদের আসন হারানোর প্রবণতাই বেশি দেখা যায়।

বিবিসি জানিয়েছে, গত দুই বছর ধরে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের বেশিরভাগ আসন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দখলে। ফলে কোনো আইন পাসের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচন তার সেই সুবিধাজনক অবস্থান কেড়ে নিতে পারে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে বলেই জনমত জরিপগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে রিপাবলিকানদের ৫টি আসনের ভোটের ফল উল্টে দিলেই হবে; আর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে এখন তাদের যত আসন আছে তার চেয়ে মাত্র একটি আসন বেশি লাগবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর হিসাবে রিপাবলিকানরা এবারের নির্বাচনে ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় ১৫ থেকে ২৫ আসন বেশি পাবে। উচ্চকক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েরও আভাস দিয়েছেন তারা। অনেক বিশ্লেষকই বলছেন, সিনেটে যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে চারটিতে বাস্তবিক প্রতিযোগিতা হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। ওই চার আসন রয়েছে নেভাদা, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে।