নির্বাচন ইস্যুতে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা জাতিসংঘের নেই

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ করার কোনো ক্ষমতা নেই। এটা সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের বিষয়। ভোট ইস্যুতে বাংলাদেশ জাতিসংঘকে বললে অথবা নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বলা হলেই জাতিসংঘ কাজ করতে পারবে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস কূটনৈতিক বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে ডিকাব-টকে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন।

গোয়েন লুইস বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক মাসে কিছু ব্যক্তি হতাহত হয়েছে, যা খুবই উদ্বেগের। এ জন্য নিরাপদে কীভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো যায়, সেটা নিয়ে সংলাপ হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত বাংলাদেশ সফর করে দুটি পরামর্শ দিয়ে গেছে। এ বিষয়ে গত সোমবার সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘ একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে উপস্থিত ছিল। সেখানে মানবাধিকার ইস্যুতে মনিটরিং প্রক্রিয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ হয়েছে।

বৈশ্বিক এজেন্ডায় রোহিঙ্গা ইস্যু ধরে রাখা কঠিন : বৈশ্বিক অন্যান্য এজেন্ডার সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন গোয়েন লুইস। তিনি বলেন, তারপরও জাতিসংঘ বিষয়টি জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে। আমরা দেখছি বৈশ্বিকভাবে অনেক কিছুই প্রতিনিয়ত সামনে আসছে। আফগানিস্তান ইস্যুর পরপরই সামনে এলো ইউক্রেন ইস্যু। এটি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমরা চেষ্টা করছি রোহিঙ্গা ইস্যুকে জিইয়ে রাখতে।

রাজনৈতিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দিয়ে লুইস বলেন, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। তা হতে হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘ কাজ করছে। এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান চাই।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ এখন চ্যালেঞ্জিং জানিয়ে লুইস বলেন, তাদের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং। সেখানে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি।

রোহিঙ্গাদের অর্থায়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য দাতাদের দেওয়া ফান্ড থেকে স্থানীয় অফিস ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ ব্যয় করা হয়। বাকি অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয় করা হয়। এ সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন লুইস।

ইউক্রেন ইস্যুটি এখন খুব জটিল : ইউক্রেন ইস্যুতে আরেক প্রশ্নের জবাবে লুইস বলেন, ইউক্রেন সংকট নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এটি এখন খুব জটিল বিষয়। এ সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে সংলাপ হয়েছে। এ সংকটের সমাধান জরুরি।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন আবাসিক সমন্বয়কারী। তিনি জানান, জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশের ৬ হাজার ৮০০ শান্তিরক্ষী রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের ৫০০ নারী শান্তিরক্ষী। এটি খুব ইতিবাচক।

বিরোধী দলকে প্রচারণার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের : এদিকে গত সোমবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এমআর প্রাইস বলেন, বাংলাদেশে অবৈধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এমনটি আশা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর জন্য পরিবেশ তৈরি করা এবং বিরোধী দল যেন প্রচারণা চালাতে পারে, সেটির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতাকে মুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আহ্বান জানাবে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক অবস্থান এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এটি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে গোপনে এবং প্রকাশ্যে আলোচনা করে থাকে বলে জানিয়েছেন প্রাইস।

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্র জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের আলোচনায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে আমরা সব বাংলাদেশির জন্য আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষা ও মৌলিক স্বাধীনতা অক্ষুণœ রাখারও আহ্বান জানাই।

যুক্তরাষ্ট্র আশা ও সমর্থন করে, আগামী নির্বাচনে সামাজিক অংশগ্রহণ শক্তিশালী হবে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ তাদের সরকার নির্বাচিত করবে।