অর্থ পাচারকারীদের গুলি করে মারার শাস্তি দেওয়া উচিত

ঘুষ, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করে এ নিয়ে প্রতিকারের কথা বলেছে উচ্চ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিকালে বলা হয়, ‘ঘুষ এখন টাকায় নয়, ডলারে লেনদেন হচ্ছে।’ অন্যদিকে বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতিসংক্রান্ত মামলায় বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলে, ‘অর্থ পাচারকারীদের দ্রুত বিচার আদালতে (সামারি ট্রায়াল) বিচার করে গুলি করে (শ্যুট ডাউন) মারার শাস্তি দেওয়া উচিত।’ গত ৩১ জুলাই গণমাধ্যমে কুলাউড়ার জহিরুলের পরিবর্তে জালিয়াতি করে কারারক্ষী পদে অন্যজনের চাকরি এবং তার সত্যতা ১৮ বছর পর তদন্তে প্রমাণিত হওয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারারক্ষী পদে চাকরির জন্য ২০০৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছিলেন কুলাউড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এশু। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। কিন্তু যোগদানপত্র না আসায় চাকরির আশা ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

প্রতারণার মাধ্যমে তার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ওই পদে আরেকজন চাকরি করছেন জানতে পেরে চাকরি পেতে গত জানুয়ারিতে সিলেটের কারা উপ-মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করলেও তাতে সাড়া পাননি জহিরুল। এরপর প্রতিবেদনটি যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, কারা মহাপরিদর্শক, কারা উপমহাপরিদর্শক, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করেন তিনি। শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজ বুধবার ধার্য করে হাইকোর্ট।

শুনানির একপর্যায়ে হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, ‘এটি বেশ বড় অভিযোগ। এ রকম একটি স্পর্শকাতর জায়গায় (কারাগার) যদি এরকম অনিয়ম হয়, তাহলে এটা একটা অশনিসংকেত।’ 

একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শুনানিকালে বলেন, ‘মিডিয়ায় এসেছে বস্তায় টাকা দিয়ে ঘুষের লেনদেন হয়।’

আদালত তখন দুদকের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে বলে, ‘দুদকের আইনজীবী এখানে আছেন। এখন টাকায় নয় ঘুষ লেনদেন হয় ডলারে। দুদক তো এগুলো দেখে না।’ 

এদিকে গতকাল বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চে বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচার মামলার আসামি মোহাম্মদ আলীর জামিন শুনানি হয়। শুনানির সময় আদালত বলে, অর্থ পাচারকারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। কিন্তু কেন এত বছর পরও এসব মামলার বিচার শুরু হচ্ছে না। হাইকোর্ট এসময় দুদক আইনজীবীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চায়। দুদক আইনজীবী বলেন, টাকাগুলো কোথায় কীভাবে পাচার হয়েছে তা জানতে একটু সময় লাগছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছেন।

আদালত আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত জামিন শুনানি মুলতবির আদেশ দেয়।

আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হোসেন ও মো. জুবায়দুর রহমান। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।