রাজনীতির গোলকধাঁধায় পাকিস্তান

৩ নভেম্বর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওপর হামলা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে পিটিআইয়ের সমর্থক থেকে শুরু করে ভক্তরা। রাজনীতিকের ওপর হামলা পাকিস্তানে এই প্রথম নয়। এর আগেও হয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থা না পাল্টালে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ গেম অব থ্রোনসে লিটলফিঙ্গার নামে এক চরিত্র বলেছিল, ‘বিশৃঙ্খলা কোনো গর্ত নয়, এটি একটি মই। যারা এই মই বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করেন, তারা অনেকেই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।’ লিটলফিঙ্গারের এই বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনীতিকদের ক্ষেত্রে অনেকটাই প্রযোজ্য। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বাদ আজ পর্যন্ত দেশটি পায়নি। ১৯৪৭ সালে সৃষ্টির পর থেকে রক্তমাখা পায়ে হাঁটছে পাকিস্তান। ১৯৫১ সালে দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান খানকে রাওয়ালপিন্ডিতে এক লাখ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৯৭৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোকে ফাঁসিতে ঝোলান তৎকালীন স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউল হক। এই জেনারেলও ১৯৮৮ সালে বিমান ‘দুর্ঘটনায়’ ধরাধাম থেকে বিদায় নেন। এরপর ২০০৭ সালে খুন হন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। এই তালিকায় দেশটির আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নাম প্রায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছিল। কপালজোরে তা হয়নি। কপালের এই জোর ইমরানের না পাকিস্তানের, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পপুলিস্ট নেতা ইমরান কয়েক মাস আগে বিশৃঙ্খলার সেই মই বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করেন এবং প্রায় পড়ে যান। পরে ৩ নভেম্বর লংমার্চ কর্মসূচি চলাকালে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি।

ইমরান মূলত সেই ক্ষমতাকাঠামোরই সৃষ্টি যারা দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি জিইয়ে রেখেছে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! যারা পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল এবং নামিয়েছিল, ইমরান আজ তাদের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন, অন্তত এ মুহূর্তে। পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি ধারণার চেয়ে গুরুতর বলে মনে করছেন অনেকে। ইমরান ও তার রাজনৈতিক স্রষ্টারা বুঝতে পেরেছেন, প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করতে হলে বিশৃঙ্খলার মইটি আরও অনেক বেশি নড়বড়ে করতে হবে, যাতে অপর পক্ষ পড়ে গিয়ে আর উঠতে না পারে। ইমরান তার সাবেক পৃষ্ঠপোষক ও মিত্রদের কুপোকাত করতে চাইছেন; তারা যেন তার সামনে মাথা নত করে কারণ চলতি বছরে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদেরই দায়ী করেন ইমরান। এমনকি তাকে হত্যাচেষ্টায় তাদের হাত ছিল বলে প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেন তিনি। পাকিস্তানের ইতিহাস বলছে, দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে এক বেসামরিক নাগরিকের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য করানোএটি বলা সহজ, করা কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, প্রতিকূল আবহাওয়া ও স্থবির অর্থনীতির ভেতর দিয়ে যাওয়া পাকিস্তানের পরিস্থিতি ইমরানকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর আগামী দিনে আরও অনেক বেশি নাজুক হয়ে পড়তে পারে। গেম অব থ্রোনস বা ক্ষমতার কামড়াকামড়িতে সাধারণ মানুষের জীবন যে আরও চিঁড়েচ্যাপ্টা হবে, সে বিষয়ে মাথা ঘামাতে দেখা যাচ্ছে না ক্ষমতার ভেতরে ও বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের। যত দিন পর্যন্ত পাকিস্তানের অভিজাত শ্রেণি বিশ্বাস করবে, বিশৃঙ্খলার মই বেয়ে তারা সব সময় এর মাথায় উঠে বসে থাকবে, তত দিন অস্থিতিশীলতার এই চাকা ঘুরতেই থাকবে, পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। পরিবর্তন হবে শুধু দেশটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনযাত্রার মান।

ইমরানের অভিযোগ

৩ নভেম্বর পাঞ্জাবে প্রাণঘাতী হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান পুরো ঘটনার জন্য তিনজনকে দায়ী করেন। তারা হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ খান ও গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসির। ইমরানের দাবি, ওই তিন ব্যক্তি তাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেন এবং মাসখানেক আগে তিনি তা টের পান। গত সেপ্টেম্বরে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ইমরান বলেছিলেন, তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং এটিকে ধর্মীয় আক্রমণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হবে। হত্যাচেষ্টা ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি ইমরান এখন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার পদত্যাগ চাইছেন। তিনি বলেছেন, ওই তিন ব্যক্তি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তদন্তকাজ স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন হওয়ার সুযোগ নেই। শাহবাজ শরিফ, রানা সানাউল্লাহ ও মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসিরের বিরুদ্ধে ইমরানের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রাষ্ট্রের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে দায়ী করার মধ্য দিয়ে ইমরান যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেখান থেকে পরে পিছু হটা তার পক্ষে কঠিন হতে পারে। তার দাবির মুখে শাহবাজ শরিফ বা রানা সানাউল্লাহ সরে দাঁড়াবেন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। একই সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাও ইমরানের দাবি মেনে তাদের একজন কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করবে না। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, তদন্তকাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও পক্ষপাতের অভিযোগ থাকবে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র ও পিটিআইয়ের মধ্যকার তিক্ততা আরও বাড়বে। তার ওপর হত্যাচেষ্টার দিন পাঞ্জাব পুলিশের প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তির ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ ভিডিও ফাঁস, প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) নথিভুক্ত করতে বিলম্ব, কেন্দ্রীয় সরকার ও পাঞ্জাব সরকারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিভ্রান্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ঘি ঢালতে সহায়তা করে। শাহবাজ, সানাউল্লাহ ও ফয়সালের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন ইমরান। হামলার পরের দিন ৪ নভেম্বর জুমার নামাজের পর পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজ্যে পিটিআইয়ের সমর্থক ও সমব্যথীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। ইমরানকে সেদিন কারা হত্যা করতে চেয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্য কী, হামলাকারী কি লোন উলফ ছিলেন নাকি কারও নির্দেশে কাজটি করেছিলেনএসব প্রশ্নের উত্তর আদৌ পাওয়া যাবে কি নাএ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কেন এই পরিস্থিতি

বিপর্যস্ত অর্থনীতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের নেতৃত্বাধীন সরকার। এদিকে আগাম নির্বাচন ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে মাঠ কামড়ে পড়ে আছেন ইমরান। ক্ষমতা ফিরে পেতে সহায়তা না করলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। দেশটি যে আজ খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে, তার তিনটি কারণ বের করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, কাঠামোগত সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি পাকিস্তানি রুপির রেকর্ড দরপতন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাসসহ অর্থনৈতিক নানা সংকট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছে না শাহবাজ সরকার। আইএমএফের ঋণ পেতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, বেসরকারীকরণসহ গণবিরোধী পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে তাদের। শাহবাজ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে দর-কষাকষি করতে হচ্ছে, মার্কিনিদের চাওয়া পূরণ করতে হচ্ছে। আইএমএফের ঋণ পেতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ওয়েনডি শেরমানের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া। এ ছাড়া আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির সন্ধান দিতে মার্কিন প্রশাসনকে শাহবাজ সরকার সহযোগিতা করে বলেও অভিযোগ আছে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর খুল্লামখুল্লার হস্তক্ষেপ গুরুতর রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতা থেকে সরান সেনাপ্রধান বাজওয়া। পরের বছর নির্বাচনের মাধ্যমে ইমরানকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসান তিনি। তার দোয়ায় প্রায় চার বছর ক্ষমতায় টিকে ছিলেন সাবেক এই ক্রিকেটার। এই চার বছর ইমরানের অতিমাত্রায় চীনপ্রীতি ও মার্কিনবিরোধী অবস্থানে ক্ষুব্ধ হন বাজওয়া। তাই তিনি চলতি বছরে ইমরানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে রাজি করান সেনাবাহিনীর প্রতি অনুগত ছোট কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে। অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিতে ইমরান হেরে গেলে ক্ষমতায় বসে শাহবাজ সরকার। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়বেনএমনটাই আশা করেছিলেন বাজওয়া ও শাহবাজ। কিন্তু আদতে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ক্ষমতায় না থেকেও দিনকে দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছেন ইমরান। পাঞ্জাবে উপনির্বাচনে তার দল পিটিআইয়ের জয় তারই ফল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপরই ইমরান অভিযোগ করেন, ‘স্বাধীন’ পররাষ্ট্রনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাকে গদি থেকে উচ্ছেদ করে। দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের নিয়ে বর্তমান সরকার গঠন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। ইমরানের এসব অভিযোগ পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও তরুণদের ব্যাপক আকৃষ্ট করে। এ কারণে পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ বিদেশি তহবিলের অভিযোগ শাহবাজ সরকারের পক্ষ থেকে উঠলেও তাতে লাভ হয়নি। সেনাপ্রধান বাজওয়ার জন্য সবচেয়ে খারাপ ও উদ্বেগজনক খবর হলো, সেনাবাহিনীর বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের একাংশ ইমরানকে সমর্থন জোগাচ্ছে। তৃতীয়ত, প্রতিশোধের রাজনীতি পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আগুনে হাওয়া দিচ্ছে। ক্ষমতায় থাকাকালে ইমরান তার প্রতিপক্ষদের বিভিন্নভাবে নাস্তানাবুদ করেন। পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) নেতা শাহবাজ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বদলা নিতে ইমরানকে দৌড়ের ওপর রাখেন। বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অপরাধে সম্প্রতি ইমরানকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য ঘোষণা তারই অংশ।

সমাধান কী

৩ নভেম্বর ইমরানের ওপর হামলার পর পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছেএ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী? নির্বাচন একটি সমাধান হতে পারে। ইমরান তার প্রতি ক্রমেই বাড়তে থাকা জনসমর্থন ধরে রাখতে চাইছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, মানুষের ক্ষোভ এখনই কাজে লাগাতে হবে, নইলে দেরি হয়ে যাবে। তাই দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা না হলে পাকিস্তানজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে শাহবাজ সরকারকে হুমকি দিয়েছেন তিনি। এদিকে চলতি মাসে সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়া অবসরে যাচ্ছেন। এরপর তিনি পুরোপুরি অবসরজীবন কাটাবেন নাকি পেছন থেকে কলকাঠি নাড়বেন, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। বাজওয়া স্বাভাবিকভাবেই চাইবেন, তার উত্তরসূরি হিসেবে এমন একজনকে যাতে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি তার খেয়াল রাখবেন, ইমরান ক্ষমতায় ফিরলেও। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) ও তার জোটের অংশীদাররা আগামী বছর মেয়াদ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায় কারণ আগাম নির্বাচন দিলে তাদের হেরে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেনাপ্রধান বাজওয়ার কাছ থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে শাহবাজ সরকার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে সংসদ সদস্যপদ খারিজের মাধ্যমে ইমরানকে দমাতে চেয়েছিল। এ ছাড়া আরও অভিযোগ এনে তাকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু সব পরিকল্পনা বা কৌশল যে ব্যর্থ হয়ে সাবেক ক্রিকেটারকে আরও জনপ্রিয় করবে, তা বাজওয়া বা শাহবাজ কেউই আশা করেননি। নতুন সেনাপ্রধানের অবস্থানের ওপরও সংকট থেকে উত্তরণের পথ নির্ভর করছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক খেলোয়াড়রা খুব ভালোভাবেই জানেন, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তারা তাদের হিসাব-নিকাশের বাইরে রাখতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পাকিস্তানের জন্য নতুন নয়। আগের মতো সাম্প্রতিককালের সংকট থেকেও দেশটি হয়তো বের হয়ে আসতে পারবে। তবে সৃষ্টির পর থেকে চলতে গিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র কেন বারবার হোঁচট খাচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করা খুবই জরুরি। নয়তো একই ধরনের সমস্যায় দেশটিকে কিছুদিন পরপরই পড়তে হবে। সাধারণ মানুষের মুক্তি সে ক্ষেত্রে কখনোই মিলবে না।