ডেঙ্গু রোগী প্লাটিলেট বাড়াতে যা খাবেন

দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। মনে করা হচ্ছে উঊঘঠ ২ দ্বারাই আক্রান্তের সংখ্যা প্রচুর বিধায় সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। ভয়ের কিছু নেই আমরা করোনা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। এবার ডেঙ্গু সংক্রমণের অন্যতম জটিলতার প্রসঙ্গে কিছু কথা, সেটা হলো রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়া। প্লাটিলেট কমতে কমতে বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, প্লাটিলেট ২০,০০০ এর নিচে নেমে গেলে শরীরের অভ্যন্তরে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয়; তাতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকির সম্ভাবনা। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই ডেঙ্গু শনাক্ত হলে খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যা প্লাটিলেটের সংখ্যাকে বাড়াতে ও নিরাপদ পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করবে। প্লাটিলেটের সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে পারে এমন কিছু খাবারের তালিকা নিয়ে আলোকপাত করা হলো।

পেঁপে পাতা : পেঁপে পাতাতে অ্যাসিটোজেনিন নামে একটি অনন্য ফাইটোকেমিক্যাল থাকে, যা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কার্যকর প্রতিকারক হতে পারে। এটি প্লাটিলেটের সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে। পেঁপে পাতাতে ফ্লেভানয়েড ও ক্যারোটিনও থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি হিসেবেও কাজ করে। ঘরে সহজেই পেঁপে পাতার জুস বানাতে পারেন। ৪/৫টা পেঁপে পাতাকে পানিতে ফুটিয়ে সকালে ও সন্ধ্যায় এক কাপ করে পান করুন।

কিশমিশ : ডেঙ্গ সংক্রমণে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলে কিশমিশ খেয়ে বিপদ এড়াতে পারেন। কিশমিশে প্রচুর আয়রন রয়েছে। গবেষণা মতে, আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়ে। একমুঠো কিশমিশকে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর সকালে পানিসহ কিশমিশগুলো খেয়ে ফেলুন। এটা অ্যানিমিক রোগীদের জন্যও খুবই কার্যকর, যাদের হিমোগ্লোবিন কমে যায়।

কমলা : কমলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। ভিটামিন সি শরীরে প্লাটিলেটের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবারও ডেঙ্গু রোগীর জন্য সহায়ক হতে পারে, যেমন লেবু, আমলকী, কাঁচামরিচ ও ক্যাপসিকাম।

কলা : কলা হলো পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, যা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে। গবেষণায় পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে দেখা গেছে। অধিক কার্যকারিতা পেতে পটাশিয়ামের পাশাপাশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন।

মেথির পানি : প্লাটিলেটের সংখ্যা কমতে থাকলে মেথির পানি পান করতে পারেন। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ মেথি বীজ সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ওই পানি সকালে হালকা গরম করে পান করুন। মেথির বীজ দিনেও ৩/৪ ঘণ্টা ভেজানোর পর মেথির পানি পান করা যাবে।

পালং শাক : ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ভিটামিন-কে সমৃদ্ধ খাবার উচ্চ সুপারিশকৃত। প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে ভিটামিন-কে আসলেই কার্যকর। এটি শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমাতে পারে, অর্থাৎ রক্ত জমাটের ক্ষমতা রয়েছে। পালং শাক এই পুষ্টিতে ভরপুর। ভিটামিন-কে’র অন্যান্য উৎস খেলেও উপকার পাবেন, যেমন- ব্রোকলি ও বাঁধাকপি। এসব শাকসবজির ফোলেটও প্লাটিলেট বাড়াতে অবদান রাখতে পারে।

বিটরুট : লাল রঙের এই সবজি প্লাটিলেটের ফ্রি রেডিক্যালজনিত ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে, যার ফলে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে বিপজ্জনক পর্যায়ে যায় না। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে প্লাটিলেটের সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে প্রতিদিন বিটরুটের জুস পান করতে পারেন।

ডালিম : ডেঙ্গু রোগীর খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ডালিম রাখতে হবে। এটি প্লাটিলেটের সংখ্যাকে আর কমতে দেয় না এবং যা কমেছে তা দ্রুত পূরণ করে। তাই ডেঙ্গু শনাক্ত হলেই প্রতিদিন ডালিম খাওয়া উচিত, যার ফলে প্লাটিলেটের কমে যাওয়া এড়ানো সম্ভব হবে। ডালিমে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এছাড়া এতে রোগ নিরাময়ের অন্যান্য উপাদানও আছে।