বগুড়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা প্রায় ৬৬ ঘণ্টা পর সাবেক ছাত্রনেতাদের আহ্বানে শর্তসাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ছাত্রলীগের কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার পর দলীয় তালা খুলে দেওয়া হয়।
বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির প্রত্যাহার চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
সোমবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রীয়ভাবে সজীব সাহাকে সভাপতি ও আল মাহিদুল ইসলাম জয়কে সাধারণ সম্পাদক করে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা কমিটি ঘোষণা পরপরই বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এরপর থেকে তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেয় আংশিক কমিটিতে পদ পাওয়া নেতারা। জেলা কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তারা জানান।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। এদিন বেলা ১২টার পর বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র নেতারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তারা কথা বলেন।
দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাবেক ছাত্রনেতা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি জামান নিকেতা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন, একেএম আসাদুর রহমান দুলু, প্রচার সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি হিরো, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শেরিন আনোয়ার জর্জিস, জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশিষ পোদ্দার লিটন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলুসহ অনেকে।
এ সময় জেলা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাবেক ছাত্রনেতারা বলেন, জেলা ছাত্রলীগের যে কমিটি অনুমোদন হয়েছে তাতে আমাদের মাঝেও হতাশার জন্ম হয়েছে। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কমিটি পুনর্বিবেচনার জন্য পুনরায় কেন্দ্রে পাঠানো হবে। যাতে প্রকৃত ত্যাগী ছাত্রলীগের কর্মীদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। দলীয় কার্যালয়ে যেহেতু শুধু ছাত্রলীগ না, অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের অফিস রয়েছে। তালা খুলে দিয়ে অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার সুযোগ দিতে হবে।
সাবেক নেতৃবৃন্দের কথায় আশ্বস্ত হয়ে শর্তসাপেক্ষে দলীয় কার্যালয়ের তালার চাবির হস্তান্তর করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি জামান নিকেতার নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রনেতারা দলীয় কার্যালয়ে তালা ৬৬ ঘণ্টা পর খোলেন।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তৌহিদুর রহমান তৌহিদ, সিদ্ধার্থ কুমার, মাহফুজার রহমান জানান, সাবেক ছাত্রনেতাদের আহ্বানে শর্তসাপেক্ষে দলীয় কার্যালয়ের তালার চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর দিকে কার্যালয়ের অভ্যন্তরে থাকা ছাত্রলীগের অফিস তালাবদ্ধ রয়েছে। এ কমিটি বাতিল না হওয়া অবধি জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকবে।
তারা জানান, সোমবার রাত থেকে জেলা ছাত্রলীগ, পৌর ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।
অপরদিকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার সকালে এক জরুরি সভার আয়োজন করে। জরুরি সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও স্লোগানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
আলোচনার মাধ্যমে সব সংকট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংগঠনের নীতিনৈতিকতা বিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল রাজী জুয়েল এসব জানিয়েছেন।