যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন

লাল ঢেউ না ওঠার নেপথ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতেও ৮ নভেম্বরের ভোটে রিপাবলিকানদের ‘লাল ঢেউ’ ওঠার আভাস পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি। যদিও রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথেই রয়েছেন। আগে থেকেই এমনটি ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবধান হবে ধারণার চেয়ে আরও কম। কারা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ জন্য সম্ভবত জর্জিয়ায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোটাভুটি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

রিপাবলিকানরা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অজনপ্রিয়তা এবং খাবার ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকানদের ক্ষোভ তাদের কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সাহায্য করবে।

যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে হোয়াইট হাউজে যিনি থাকেন তার দলের খারাপ করার প্রবণতা থাকে। সেখানে এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকার পরও কী কারণে রিপাবলিকানদের এই ঢেউ উঠল না, আশানুরূপ ফল করতে পারল না, তা বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি। 

এবারের নির্বাচনে দুই দলের জন্য সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ ছিল মূলত দুটি বিষয়। একটি গর্ভপাত অধিকার হারানোর শঙ্কা, অন্যটি মূল্যস্ফীতি। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ডেমোক্র্যাটদের যতটা ক্ষতি করবে বলে ভাবা হয়েছিল, এমনকি ডেমোক্র্যাটরাও যতটা ক্ষতির আশঙ্কা করেছিল, তেমনটা হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির গতি কমলেও ভোটারদের হয়তো মনে হয়েছে এটি এখনো তুলনামূলকভাবে ভালোই রয়েছে। যার প্রতিফলন ভোটে দেখা গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছেই, তবে প্রবৃদ্ধিও অব্যাহত আছে এবং বেকারত্বের হারও কমই আছে।

অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ দেশের মেরুকরণেও প্রতিফলিত হয়। যদিও এ বছর ডেমোক্র্যাটদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্ধকারাচ্ছন্নই ছিল। তারপরও তারা রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তুলনায় গর্ভপাত, জলবায়ু, বর্ণবৈষম্যের মতো বিষয়গুলোতে নিজেদের অনেক বেশি ইতিবাচক দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। এই নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভীতিও ভোটারদের গণতন্ত্রের দিকেই বেশি ঝুঁকিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোট পড়ছে। আংশিকভাবে হলেও এমনটা হওয়ার বাস্তব কারণ একটি গণতান্ত্রিক মানসিকতা, যা তরুণ প্রজন্মকে বেশ প্রভাবিত করেছে। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জন টেইলর বলেন, ‘জেনারেশন-জেড ভোটাররা মূলত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।’

তরুণ প্রজন্ম এখন উদারতা আধুনিকায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আদেশে গর্ভপাতের অধিকার বাতিলের পর তাদের মধ্যে শঙ্কা বেড়েছে। অন্যান্য সাংবিধানিক অধিকার বাতিল হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তারা রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের দিকে কম ঝুঁকেছে। 

বিবিসি বলছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং রিপাবলিকান পার্টির ওপর তার অব্যাহত প্রভাবের অগ্নিপরীক্ষা ছিল। অধ্যাপক টেইলর মনে করেন, অনেক ভোটার যারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না তারা হয়ত রিপাবলিকান দলের ওপর ট্রাম্পের অব্যাহত প্রভাব নষ্ট করে দলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘তাই এবারের ভোট অন্য যেকোনো কিছুর চাইতে অনেক বেশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর গণভোট ছিল কিনা তা নিয়ে একটি বিতর্ক হতেই পারে।’