এক বিশ্বকাপ থেকে আরেক বিশ^কাপ সময় গড়ায় চার বছর। মাঝে কত ফুটবলারের ক্যারিয়ার শেষ হয়, কতজন আবার এগিয়ে যান অনেক। বিশ্বকাপ ঘিরেই ফুটবলারদের যত স্বপ্ন। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও ফ্রান্স ফুটবলারদের এই স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে। দুই দলই কাল বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে। তাতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের নতুন ১৪ এবং চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির নতুন ১৫ জন বিশ্বকাপের উত্তাপ গায়ে মাখছেন প্রথমবার। দুই দলই গত বিশ্বকাপ খেলা ১১ ফুটবলারকে ধরে রেখেছে। বিশ্বকাপ অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুনদের নিয়ে দুই ইউরোপ জায়ান্ট নিজেদের অতীত সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চায়। একই দিন দল ঘোষণা করেছে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড ও উরুগুয়ে। এডিনসন কাভানিকে নিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন লুইস সুয়ারেজ। বেলজিয়ামও ঘোষণা করেছে দল।
গতবারের মতো ফ্রান্স এবারও ফেভারিট হয়ে নামছে। বিশ্বকাপ জয়ীর তকমা তো থাকছেই। সঙ্গে ইউরোপজুড়ে খেলা তারকা ফুটবলারদের ভিড়ও আছে দলে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য করিম বেনজেমা। বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা ২০১৪ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলবেন। থাকছেন গতবার একটি গোলও করতে না পারা ‘স্ট্রাইকার’ অলিভিয়ের জিরু। দুই আলোচিত তারকা বাদে নিয়মিত দলে থাকা ফরাসিরা আছেন। ইনজুরিতে দুই বিশ্বজয়ী পল পগবা ও এনগলো কন্তে এবার নেই। তাই বলে ফরাসি দলে ইনজুরি ভয় নেই যে এমন নয়। রাফায়েল ভারানে ও প্রেসনেল কিমপেমবেকে ইনজুরি সত্ত্বেও দলে রাখা হয়েছে। দল নিয়ে ফরাসি কোচ দেশম জানান, ‘আমি আজ অনেককেই নাখোশ করেছি। আবার ২৫ জনকে খুশি করেছি। এদের সবাই সেরা একাদশে থাকতে চায়, যা অসম্ভব। তবে একটা গ্রুপ হয়ে আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি এটাই বড় কথা।’
ফ্রান্সে খুব একটা চমক না থাকলেও জার্মানিতে আছে। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেওয়ার নায়ক মারিও গোটজে ফিরেছেন। জার্মান কোচ হান্স ফ্লিক এক বিশ্বকাপ পর এই ফরোয়ার্ডকে টানলেন। এছাড়া কৈশোর পেরোনোর আগেই বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়া তরুণও আছেন। ক্যামেরুনে জন্ম নেওয়া ইউসোফা মৌকোকো মাত্র ১৭ বছরে খেলবেন বিশ্বকাপ। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের এই তরুণ অনূর্ধ্ব-২১-এ জার্মানির জার্সিতে ৫ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল। আর ১৩ বুন্দেসলিগা ম্যাচে এবার করেছেন ৬ গোল। আগের গোলসহ মোট ১০ গোল হলো মৌকোকোর। এত কম বয়সে কোনো বুন্দেসলিগা ফুটবলারের এই সংখ্যক গোল নেই। মুকোকোর ভাগ্য খুলেছে টিমো ভারনারের ইনজুরিতে। বিশ্বকাপে ডাক পাওয়ার খবর পেয়ে ইন্সটাগ্রামে মৌকোকো লিখেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি অবিশ্বাস্য আনন্দে ভাসছি।’ জার্মান দল থেকে বাদ পড়াদের তালিকায় শীর্ষে ম্যাটস হুমেলস। ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী তারকাকে না নেওয়ার ব্যাপারে ফ্লিক অভিজ্ঞতার জায়গায় তারুণ্যের প্রাধান্যকে সামনে টানেন। নেই বরুশিয়া ডর্টমুন্ড তারকা মার্কো রেউসও। তবে আছেন তিন বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞ টমাস মুলার ও ম্যানুয়েল ন্যয়ার। এছাড়া জার্মান ও ইংলিশ লিগে নিয়মিত পারফরমাররা আছেন।
ইংল্যান্ড দলে স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশ লিগে খেলা তরুণ ও অভিজ্ঞদের ভিড়। তবে সবচেয়ে সমালোচনার বিষয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা হ্যারি ম্যাগুয়েরের থাকা। এই ডিফেন্ডার নানা সময়ে নিজের ভুলের কারণে ক্লাব দলের একাদশেই সুযোগ পান না। তাকে বিশ্বকাপ দলে নিয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে গ্যারেথ সাউথগেটকে। এছাড়া গতবারের সেমিফাইনালিস্টদের ভরসা রাখতে হচ্ছে সেরা তারকা হ্যারি কেইনের ওপর।
বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ভরসা রেখেছেন রোমেলু লুকাকু ও ইডেন হ্যাজার্ডের ওপর। অথচ এ দুজন ইনজুরিতে ভুগছেন। কোচের বিশ্বাস বিশ্বকাপের আগেই ফিট হয়ে উঠবেন তার দুই সেরা তারকা। এছাড়া উপায়ও নেই মার্তিনেজের। বিশ্ব ফুটবলের রেড ডেভিলসদের এই গ্রুপকে বলা হয় তাদের সোনালি প্রজন্ম। অথচ দলটিতে অভিজ্ঞতায় পূর্ণ ফুটবলার থাকলেও গত দুই আসর ধরে ভালো ফল নেই। এবার শেষ সুযোগ এই গ্রুপের। ভালো কিছু না হলে সোনালি প্রজন্মের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হবে তারা। তাই সব অভিজ্ঞ ফুটবলারকে রেখে শেষ চেষ্টা করতে চান মার্তিনেজ।