পরিত্যক্ত কূপে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের আশা

সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের আওতাধীন বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের পরিত্যক্ত ১ নম্বর কূপ খনন করে গ্যাসের মজুদ পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ কূপে গ্যাসের মজুদ থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় বাপেক্স। প্রতিদিন এ কূপ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করছে সংস্থাটি। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আরও কিছু কার্যক্রম শেষে শিগগিরই এ কূপ থেকে উৎপাদন শুরু হবে। খনন শুরুর আগে ডিপিপিতে ধরা হয়েছিল প্রতিদিন ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলতে পারে। তবে বর্তমানে মনে হচ্ছে আরও বেশিই মিলবে। প্রতিদিন এ কূপ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা রয়েছে। তিনি আরও জানান, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে বিয়ানীবাজারের কূপ ছাড়াও গোলাপগঞ্জের কৈলাসটিলা-৮ ও গোয়াইনঘাট-১০ নম্বর কূপ খনন এবং রশিদপুরে একটি পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষে গ্যাস উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

এ ছাড়া দুটি প্রকল্পের আওতায় বিয়ানীবাজার ফিল্ড এবং ব্লক-১৩ ও ১৪-এর আওতায় ডুপিটিলা, বাতচিয়া, হারারগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও সিলেট সাউথে ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপ কাজ সম্পন্নের পথে। ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস যুক্ত হবে। সব প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ২০২৫ সালের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড থেকে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি পাওয়ার আশা রয়েছে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের অধীন বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রে দুটি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর কূপ থেকে ১৯৯৯ সালে উৎপাদন শুরু হয়। ২০১৪ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালের শুরুতে উৎপাদন শুরু হয়ে আবার ওই বছরের শেষদিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা এ কূপে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে আবার খননকাজ শুরু হয়। খননকাজ শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান মেলে।