খুব সম্ভবত এবারই শেষবারের মতো বিশ্বকাপে দেখা যাবে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। ব্যক্তিগত অর্জন, সাফল্য সবই লুটিয়েছে তাদের পায়ে। ক্লাব ফুটবলের সব শিরোপা এবং ব্যক্তিগত অর্জন জমা হয়েছে তাদের নামের পাশে। নিজ নিজ দেশের হয়ে জেতা হয়েছে মহাদেশীয় শিরোপাও। আক্ষেপ শুধুই বিশ্বকাপ। শেষবেলায় কে হবেন সৌভাগ্যবান?
বিশ্বকাপটা একা জেতা যায় না, গোটা দল মিলে আসর জুড়ে ভালো খেলেই জিততে হয়। নিজেদের শেষ বিশ্বকাপে মেসি আর রোনালদো আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের জার্সিতে কাদের পাশে পাবেন সেই কৌতূহলের অবসান হয়েছে শুক্রবার। পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস ও আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি দুজনেই ঘোষণা করেছেন নিজ নিজ দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড। স্কালোনি চোটগ্রস্ত পাওলো দিবালা ও চোট থেকে সেরে ওঠা অ্যাঞ্জেল দি মারিয়াকে দলে রেখেছেন; অন্যদিকে সান্তোস ফিরিয়েছেন এক সময়ের কুখ্যাত ডিফেন্ডার পেপেকে।
দল ঘোষণার সময় স্কালোনি বলেন, ‘তারা (খেলোয়াড়রা) দলে ডাক পেয়ে এবং এই জার্সি পরতে পেরে গর্বিত। আশা করি, এই দলের সমর্থক হয়ে আপনারাও তাই। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ!’
আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনির জন্য দুঃসংবাদ ছিল জিওভান্নি লে সেলসোর চোট। কোপা আমেরিকার সবশেষ দুটো আসরে, বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে লে সেলসো ছিলেন স্কালোনির অন্যতম ভরসার ফুটবলার। মাঝমাঠের এই ফুটবলার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন, পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া মেসির সঙ্গে তার রসায়নটাও ভালো জমেছিল। শেষ পর্যন্ত ভিয়ারিয়ালে খেলা এই ফুটবলারকে কাতারে পাওয়া হচ্ছে না স্কালোনির। লে সেলসোর অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপ ভাগ্য খুলে গেছে এজেকুয়েল পালাসিওসের।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খেলবে সি গ্রুপে। প্রতিপক্ষ সৌদি আরব, পোল্যান্ড আর মেক্সিকো।
কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের দলে ৩৭ বছরের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে আছেন ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার পেপেও। রোনালদোর এটি পঞ্চম বিশ্বকাপ, পেপের চতুর্থ। বয়স বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে এটিই রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। এর আগে রোনালদো জানিয়েছিলেন, ২০২৪ ইউরো খেলতে চান তিনি। তবে পরবর্তী বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কিছু জানাননি।
কোচ সান্তোস বলেন, ‘রোনালদোসহ যে খেলোয়াড়দের ডেকেছি, সবার মধ্যেই জয়ের ক্ষুধা আছে, পর্তুগালকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানানোর ক্ষুধাটা আছে।’ ২০১৬ সালে ইউরো জেতা পর্তুগালের বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য তৃতীয় স্থান। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেন রোনালদো। সেই আসরে লুইস ফিগোর দল হয়েছিল চতুর্থ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ১১৭ গোলের মালিক রোনালদো। যার মধ্যে ৭টি করেছেন বিশ্বকাপে। দল ঘোষণার পর ইন্সটাগ্রামে রোনালদো লেখেন ‘আবারও পর্তুগালের নাম উঁচুতে ওঠানোর জন্য তৈরি। ফার্নান্দো সান্তোসের তালিকায় ২৬ জনের নাম, তবে আমরা সবাই এক! চলো পর্তুগাল।’
পর্তুগালের স্কোয়াডে মোট ১০ খেলোয়াড় আছেন যারা খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। তবে ৩৬ বছর বয়সী উলভস মিডফিল্ডার জোয়াও মৌতিনিওকে দলে রাখেননি সান্তোস। রোনালদোর পর পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৪৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড দিয়েগো জোতা। জায়গা হয়নি পিএসজির মিডফিল্ডার রেনাতো সানচেসের। নেই গঞ্জালো গেদেসও। পর্তুগাল দলে চমক বলতে ১৯ বছরের বেনফিকা সেন্টারব্যাক আন্তোনিও সিলভা।
রোনালদো এই মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন ১৬ ম্যাচ। যার মধ্যে শুরুর একাদশে ছিলেন ১০ বার। পুরো ৯০ মিনিট রোনালদো মাঠে ছিলেন মোট সাত ম্যাচে। যার মধ্যে মাত্র দুটি প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে। বাকিগুলো ইউরোপা লিগে। এই মৌসুমে পর্তুগালের দল ঘোষণা করার আগে রোনালদো বেঞ্চে বসেছিলেন ম্যানইউর দুই ম্যাচে। রেড ডেভিলদের হয়ে খেলা ১৬ ম্যাচে রোনালদোর গোল মাত্র ৩টি, অ্যাসিস্ট ২টি। তবু রোনালদো যে পর্তুগাল দলে থাকবেন তা নিশ্চিতই ছিল।
৩৯ বছরের পেপে এই মৌসুমে পোর্তোর হয়ে খেলেছেন মাত্র ১০ ম্যাচ। তবু পেপের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেছেন সান্তোস। পেপে নামটা আলোচিত চরিত্র। ইউরো ২০১৬ জয়ী দলেও ছিলেন তিনি।
গ্রুপ এইচে পর্তুগালের সঙ্গী উরুগুয়ে, ঘানা ও দক্ষিণ কোরিয়া। ২৪ নভেম্বর ঘানার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পর্তুগাল।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল
গোলকিপার : এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), হেরোনিমো রুলি (ভিয়ারিয়াল), ফ্রাঙ্কো আরমানি (রিভার প্লেট)।
ডিফেন্ডার : নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), গনজালো মনতিয়েল (সেভিয়া), ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম), জার্মান পেতসেয়া (রিয়াল বেতিস), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানইউ), মার্কোস আকুনা (সেভিয়া), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), হুয়ান ফয়েথ (ভিয়ারিয়াল)।
মিডফিল্ডার : রদ্রিগো ডি পল (আতলেতিকো মাদ্রিদ), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (জুভেন্তাস), আলেক্সিস মাকআলিস্টার (ব্রাইটন), গিদো রদ্রিগেজ (রিয়াল বেতিস), আলেহান্দ্রো গোমেজ (সেভিয়া), এনসো ফার্নান্দেজ (বেনফিকা), এজেকুয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন)।
ফরোয়ার্ড : লিওনেল মেসি (পিএসজি), অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া (জুভেন্তাস), লাওতারো মার্তিনেজ (ইন্তার মিলান), জুলিয়ান আলভারেজ (ম্যানচেস্টার সিটি), পাওলো দিবালা (রোমা), নিকোলাস গনজালেস (ফিওরেন্তিনা), হোয়াকিন কোরেয়া (ইন্তার মিলান)।
পর্তুগালের বিশ্বকাপ দল
গোলরক্ষক : দিয়েগো কস্তা (পোর্তো), রুই পাত্রিসিও (রোমা), জোসে সা (উলভারহাম্পটন)।
ডিফেন্ডার : দিয়েগো দালোত (ম্যানইউ), জোয়াও কানসেলো (ম্যানচেস্টার সিটি), দানিলো পেরেইরা (পিএসজি), পেপে (পোর্তো), রুবেন দিয়াজ (ম্যানসিটি), আন্তোনিও সিলভা (বেনফিকা), নুনো মেন্দেজ (পিএসজি), রাফায়েল গেরেইরো (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড)।
মিডফিল্ডার : বার্নার্দো সিলভা (ম্যানসিটি), ব্রুনো ফার্নান্দেজ (ম্যানউই), ভিতিনহা (পিএসজি), রুবেন নেভেস (উলভারহাম্পটন), জোয়াও পালিয়ানিয়া (ফুলহ্যাম), উইলিয়াম কারভালিও (রিয়াল বেতিস), ওতাভিও (পোর্তো), জোয়াও মারিও (বেনফিকা), মাথিউস নুনেজ (উলভারহ্যাম্পটন)।
ফরোয়ার্ড : ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (ম্যানইউ), রাফায়েল লিয়াও (এসি মিলান), জোয়াও ফেলিক্স (আতলেতিকো মাদ্রিদ), রিকার্দো হোর্তা (ব্রাগ), গনজালো রামোস (বেনফিকা), আন্দ্রে সিলভা (লাইপজিগ)।