বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁতকন্যা বলা যায়। প্রধানমন্ত্রী তাঁত শিল্পের জন্য নিবেদিত প্রাণ। বাংলাদেশের তাঁত পিছিয়ে আছে শুধুমাত্র ডিজাইনের দিকে।
তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের তাঁতের শাড়ি আমাদের দেশের শাড়ির চেয়ে ভালো না। তাঁত প্রসারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে সরকার।
শনিবার (১২ নভেম্বর) মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুরে মণিপুরি উইভিং ফ্যাক্টরির শুভ উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তাঁত বোর্ড ইতিমধ্যে সকল তাঁতীকে একত্রে করতে ব্যবস্থা নিয়েছে। পদ্মাসেতুর পশ্চিমে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে সারা দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের যারা তাঁত পণ্য উৎপাদন করেন, তাদেরকে অঞ্চলভিত্তিক জায়গা করে দেয়া হবে। ১২০ একর জমিতে এ তাঁতপল্লী নির্মাণ করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে জামালপুরেও নকশীপল্লী নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই পল্লী দেশের নকশার ক্ষেত্রে বিপ্লব বয়ে আনতে পারে। দেশের সব জায়গার, সব ধরণের শাড়ির চেয়ে এগিয়ে মণিপুরি তাঁতের শাড়ির নাম। মণিপুরি শাড়ি চিনে না, এমন নারী হয়তো দেশে একজনও নেই। শুধুমাত্র মণিপুরি তাঁতের শাড়ির কারণেই বাংলাদেশের অন্যন্য সম্প্রদায়ের চেয়ে মণিপুরিরা বেশি পরিচিত বলে জানান তিনি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি শাব্বির এলাহীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পরিচালক প্রশাসন সুকুমার চন্দ্র সাহা, মহাব্যবস্থাপক (এসসিআর) কামনাশীষ দাস, বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস কর্পোরেশনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী ফিরোজ হোসেন, তাঁত বোর্ডের ক্লথ প্রসেসিং সেন্টারের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শরীফ আল মাহমুদ প্রমুখ।
আলোচনার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন মণিপুরি উইভিং ফ্যাক্টরির উদ্যোক্তা পরিচালক মো. রুবেল আহমেদ। এ উইভিং ফ্যাক্টরিতে ২০০ জন তাঁতির জন্য আধুনিক তাঁতযন্ত্র স্থাপন করা হবে।