২০১৪’র দলের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন মেসি

এবারের আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে ২০১৪ বিশ্বকাপ দলের মিল খুঁজে পাচ্ছেন লিওনেল মেসি। ফাইনালে জার্মানির কাছে ১১৩ মিনিটে গোল খেয়ে রানার্সআপ আলবিসেলেস্তেদের একতা ও মানসিক শক্তির সঙ্গে এই দলের মিল দেখেন অধিনায়ক।

‘সেই দলটা যেভাবে গড়া হয়েছিল, এটাও তাই। মানসিক শক্তির জায়গাতেও এক। আর বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত যেভাবে ওই দলটা এগিয়েছে, এই দলটাকেও তেমন লাগছে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচটা জিততে পারলে বিশ্বকাপের বাকি পথে সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগে’ শুক্রবার ২৬ জনের দল ঘোষণার পর আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ওলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন মেসি।

মেসির ওপর এবার প্রত্যাশাটা বেশি। তার অন্যতম কারণ কাতার বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ এই ঘোষণা। আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ কোপা আমেরিকা শিরোপা। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের বাস্তবতা জানেন মেসি। ‘(প্রত্যাশার) চাপ তো থাকেই। সে জন্য সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা থেকে আমাদের আলাদা থাকতে হবে। হ্যাঁ, আমরা স্বপ্ন দেখছি। তবে এর পাশাপাশি আমরা বাস্তবতাও জানি। এটা বিশ্বকাপ। যেখানে যেকোনো মুহূর্তে সামান্য ভুলে সব শেষ হয়ে যেতে পারে। প্রথম থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের একই ছন্দে খেলতে হবে। এ দলটা কিন্তু সব ম্যাচ সেভাবেই খেলে থাকে। আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকলেও আর্জেন্টাইনরা যেভাবে মনে করে, আমরা প্রথম ম্যাচ থেকেই চ্যাম্পিয়ন হব সেটি কিন্তু হবে না।’

মেসির প্রথম বিশ্বকাপ ছিল ২০০৬ সালে। অনভিজ্ঞতার কারণে সেবার খুব একটা খেলার সুযোগ পাননি তিনি। দল বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। পেছন ফিরে ওই জার্মানি আসর নিয়ে মেসি বললেন, সেবার আরও বেশি ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। ‘(নিজের) প্রথম বিশ্বকাপে আমি একদমই তরুণ ছিলাম। আমি এটি উপভোগ করেছি এবং একই সঙ্গে আমার আরও বেশি খেলার ইচ্ছা, আরও বেশি চাওয়ার সরলতা ও ক্ষোভ ছিল। একদিক থেকে এটা ভালো, অন্যদিকে আমি অনেক কিছু উপভোগ করা মিস করেছি।’

প্রায়ই দেখা যায় মেসির সঙ্গে সেলফি তুলতে বা মেসিকে জড়িয়ে ধরতে ভক্তরা মাঠে ঢুকে পড়েন। ভক্তদের এমন আচরণ নিয়ে মেসি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ভয় লাগে। যেমন ধরুন আর্জেন্টিনার সর্বশেষ ম্যাচেই এমন ঘটেছে। নিরাপত্তারক্ষীরা এসে পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে আমাকে মেরেও বসেছে!’

আগামী ২২ নভেম্বর সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কাতার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ মেক্সিকো ও পোল্যান্ড।

একই দিন ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোব’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন নেইমার। জানিয়েছেন তার নাম এরই মধ্যে ফুটবল ইতিহাসে লেখা হয়ে গেছে। জীবনে যত চাপ বা ঝড় আসুক, সব সময় আনন্দে থাকতে পছন্দ করেন জানিয়ে নেইমার বলেন, ‘আমি আনন্দে থাকা মানুষ। আমি নিজেকে নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না। আমি নিজেকে সেরা বলতে পছন্দ করি না। আমি ফুটবল খেলতে পছন্দ করি, জিততে পছন্দ করি। প্রতিদিন আরেকটু ভালো হতে চাই। আমি সতীর্থদের সাহায্য করতে চাই। এটাই আসল। আমি আশা করি, আমার নামটা ফুটবল ইতিহাসে খোদাই করা আছে। যদি ফুটবলে নাও হয়, কারও জীবনে নিশ্চয়ই আছে।’

নেইমারকে নিয়ে সমালোচনাও হয় অনেক। সমালোচনা নিয়ে বলেন, ‘এটা দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করছে। যেভাবে আপনি দেখছেন, তার ওপর। আমি আজ ব্রাজিল দলে খেলি বলে আমাকে ক্যারিয়ারে অনেক কিছুই শুনতে হয়েছে। আর এমন অনেক কিছুও শুনতে হয়, যার দিকে ফিরে তাকালে মনে হয় এসব অর্থহীন। নিজের যতœ না নিলে আমি কখনো ক্যারিয়ারে যে পর্যায়ে আছি বা যে পরিসংখ্যান আমার পক্ষে আছে, তা অর্জন করতে পারতাম না। অনুশীলন ছাড়া কিংবা লড়াই ছাড়া এটা অর্জন সম্ভব হতো না। এ কারণে অন্যায় সমালোচনা আমাকে কষ্ট দেয়।’