বিশ্বে পোশাক খাতের সামর্থ্য তুলে ধরবে

বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প তুলে ধরতে আজ থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইক-২০২২’। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। এই মেগা ইভেন্ট উপলক্ষে পোশাক খাতের বিদেশি ৫৫০ ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিনিধি ঢাকায় আসবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

গতকাল শনিবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান মেড ইন বাংলাদেশ উইকের কর্মসূচি তুলে ধরেন।

এ আয়োজনে পোশাক খাতের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষাসহ অনুসরণযোগ্য চর্চার গল্প নিয়ে ‘ওয়ান জিরো ওয়ান গুড প্র্যাকটিস ইন আরএমজি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ’ এবং বাংলাদেশকে তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ বুক’ নামে দুটি গ্রন্থ প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং বদলে যাওয়া পোশাক খাত সম্পর্কে জানবে বিশ্ব। রাজধানীর বসুন্ধরায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে (বিআইসিসি) থাকছে সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

ফারুক হাসান বলেন, মেড ইন বাংলাদেশ উইকে বিশে^র বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে ক্রেতাদের সামনে দেশের বদলে যাওয়া পোশাক খাতের সামর্থ্য তুলে ধরা হবে। আগে বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাকের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। বর্তমানে সে অবস্থা নেই। বাংলাদেশ এখন বিশে^র কাছে মানসম্মত পোশাক তৈরির জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে। মেড ইন বাংলাদেশ উইক এই খ্যাতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। সেই সঙ্গে প্রতি বছর এমন আয়োজন করার বিষয়েও বিজিএমইএ কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রথমবারের মতো ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ নামে মেগা আয়োজনে থাকছে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট। এগুলো হচ্ছে ঢাকা অ্যাপারেল সামিট, ঢাকা অ্যাপারেল এক্সপো, বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো, সাসটেইনেবল ডিজাইন অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ও সাসটেইনেবল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস। এ ছাড়া মেড ইন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডস নামে আলাদা ইভেন্টসহ আরও বেশ কিছু আয়োজন রয়েছে এতে।

তিনি বলেন, ক্রয়াদেশ কমে গেলে দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা পণ্যের দাম কমিয়ে দেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলব, ‘কোনোভাবেই পণ্যের দাম কমিয়ে দেওয়া যাবে না। রপ্তানির ক্ষেত্রে পরিবহন খরচসহ পণ্যের কাঁচামালের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এতে আপনার শিল্প লোকসানে পড়তে পারে। এ জন্য আমরা ব্যবসায়ীরা যদি দাম না কমিয়ে মান সংরক্ষণ করি তাহলে ক্রেতারা অবশ্যই বাংলাদেশে আসতে শুরু করবেন। তবে যদি এই সংকটের সময় আমরা মান সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হই, তাহলে পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘পোশাক খাতে আমাদের চ্যালেঞ্জ সব সময়ই ছিল। কিন্তু এখন আগের চেয়ে চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে মেড ইন বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে ক্রেতাদের দেখাতে চাই, আমরা কী ধরনের কাজ করছি। আমরা তাদের কাছে আমাদের পোশাকের মান তুলে ধরতে চাই, যাতে আমাদের ওপর তাদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।’

তিনি বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বল্পতার যে চ্যালেঞ্জ বর্তমানে রয়েছে, তা উত্তরণে সরকারের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। আশা করছি, এর সমাধান হয়ে যাবে। তবে বৈশি^ক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। শিল্প-কারখানার মালিকরা যদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেন, তাহলে সমস্যার সমাধান অনেকটা সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনুষ্ঠানটির আয়োজনে স্পন্সর হিসেবে বেশ কিছু বিদেশি কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি ক্রেতারা আসবেন। তারা তো নিশ্চয়ই কিছু ডলার, পাউন্ড সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন। তাই বাংলাদেশের রিজার্ভে বেশ কিছু ডলার যুক্ত হবে আশা করি।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ রপ্তানি বাজার হিসেবে বড় দেশ এবং জোটের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশ নেবেন। এ ছাড়া যেসব দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়, সেসব দেশের ব্র্যান্ড এবং ক্রেতা প্রতিনিধিরা থাকবেন। বর্তমানে ১৬০ দেশে যায় বাংলাদেশের পোশাক। বিশে^র বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ।

‘ডলার সংকটের মধ্যেও পোশাকশিল্প খাতের ব্যবসায়ীদের কাঁচামাল আনার ক্ষেত্রে এলসি খুলতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান ফারুক। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী এলসি খুলতে পারছেন না, এমন অভিযোগ আমাদের করেনি।’

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, ‘মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে পোশাক শ্রমিকদের সংগঠন ও সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে। যখন মজুরি বোর্ড গঠন হবে, তখন বাজারের বাস্তবতা ও আমাদের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে মজুরি বাড়ানো হবে।’