শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইংলিশদের সহজ লক্ষ্য দিলো পাকিস্তান

ইনিংসের শুরুতে বেন স্টোকসের নো বল। তারপর আবার ওয়াইড। তাতেই হয়তো পাকিস্তান সমর্থকরা বাবর আজমদের ব্যাটে রানের বন্যা বইবে বলে ভেবে রেখেছিলেন। তবে সব সূর্যোদয় যে সারাদিনের পূর্বাভাস দিয়ে যায় না, ইংলিশ বোলাররা যেন সেটাই প্রমাণ করে দিলেন। স্যাম কারানের পেস তোপে টিকতে না পারা, আদিল রশিদের গুগলির ধাঁধা মিলাতে না পারা কিংবা ডেথ ওভারে ব্যাট না হাসায় পাকিস্তান পেয়েছে স্বল্প পুঁজি। টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা জিততে ইংল্যান্ডের চাই ১৩৮ রান।

ইংলিশ পেসার স্যাম কারানকে বলা হয় ডেথ ওভারের রাজা। সেটা অন্য দশটা ম্যাচে প্রমাণ করা এক জিনিস, আর বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের ফাইনালে প্রমাণ করা অন্য বিষয়। চ্যাম্পিয়ন বোলাররাই সেটা করে দেখাতে পারেন। স্যাম কারান সেই চাপ সামলেছেন দারুণভাবে। ডেথ ওভারে বল হাতে ছুঁড়েছেন ১২টি ডেলিভারি। দিয়েছেন মাত্র ৭ রান। সঙ্গে নিয়েছেন দুটি উইকেট। ক্রিস জর্ডানের করা শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে আসেনি কোনো রান, উল্টো হারাতে হয়েছে উইকেট। তাতে পাকিস্তান থেমে যায় মাত্র ১৩৭ রানে। 

ফাইনালের মতো টানটান উত্তেজনার ম্যাচে আরও বড় সংগ্রহ পেতে পারত পাকিস্তান। কিন্তু ইংলিশ বোলারদের তোপ আর ঘূর্ণিতে সেটা তারা পেরে উঠেনি। বিরানব্বইয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাওয়া বাবর আজমরা ব্যাট হাতে নিজেদের সেরাটা উজার করতে পারেননি। খেলেছেন ৪৭টি ডট বল। 

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন শান মাসুদ। ২৮ বল খেলা এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে আসে দুটি চার ও একটি ছক্কা। এছাড়া বাবর আজম খেলেন ৩২ রানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস, শাদাব খান করেন ২০ রান।

ইংলিশদের হয়ে ৪ ওভারে ১২ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেছেন স্যাম কারান। এছাড়া ২২ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন আদিল রশিদ, ক্রিস জর্ডান ২৭ রান খরচায়  ২ উইকেট লাভ করেন। বেন স্টোকস শিকার করেছেন একটি উইকেট।

২০১২ সালে ১৩৭ রান করেও শ্রীলংকার বিপক্ষে ফাইনালে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে কম রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড সেটিই।