সিনেটে নিয়ন্ত্রণ পেয়ে স্বস্তিতে বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নেভাদা অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়ে দেশটির কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখল প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্র্যাট দল। দেশটির গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, নেভাদায় ডেমোক্র্যাট নেতা ক্যাথেরিন কর্টেজ মাস্তো জয় পেয়েছেন। এতে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের পাওয়া আসন সংখ্যা ৫০টিতে দাঁড়িয়েছে। আর রিপাবলিকানরা জয় পেয়েছে ৪৯টি আসনে।

সিনেট নিয়ন্ত্রণে এখন ডেমোক্র্যাটদের আর আগামী মাসে জর্জিয়ার রান-অফ বা দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে না। কারণ জর্জিয়ায় যদি রিপাবলিকানরা জিতেও যায়, তবে সিনেটে দুই দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা হবে ৫০টি করে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য লাগবে ৫১টি আসন। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তার কাস্টিং ভোটের মাধ্যমে টাই-ব্রেকিং (দুই দল সমসংখ্যক আসন পেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভোট দিয়ে একটিকে জয়যুক্ত করেন) ভোট দিতে পারবেন। 

অবশ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগাম ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন অনেকে। তবে সেসব ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করল বাইডেনের দল। গতকাল রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগেকার জরিপনির্ভর শঙ্কা মনে করিয়ে দিল বার্তা সংস্থা এএফপি এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে ক্ষমতায় থাকা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন সাধারণ  নাগরিকরা। মূলত মূল্যস্ফীতি এবং বাইডেনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ দখল করার প্রত্যাশা করেছিল রিপাবলিকানরা। মনে করা হচ্ছিল রিপাবলিকানদের ‘লাল ঝড়’ দেখা যাবে এবারের নির্বাচনে। জোরদার প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসীও দেখাচ্ছিল তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন সত্যি হলো না রিপাবলিকানদের। অ্যারিজোনার পর নেভাদাতেও জিতে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখল ডেমোক্র্যাটরাই।   

স্বাভাবিকভাবে তাই বেশ স্বস্তিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন। সিএনএন বলছে, নেভাদার জয়ে সিনেটে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়েই গতকাল রবিবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। এখন আগামী দুই বছরের দিকে নজর দেব।’

নির্বাচন নামে মধ্যবর্তী হলেও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটা ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্ব বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির উত্তর আমেরিকা প্রতিনিধি অ্যান্থনি জুর্কার। যার সারসংক্ষেপ হলো

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এখন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে আসতে পারবেন এবং প্রশাসন যতটুকু বড় করা প্রয়োজন তা করতে পারবেন তিনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যদি কোনো বিচারকের অবসর অথবা মৃত্যুর কারণে সুপ্রিম কোর্টের আসন শূন্য হয়; তখন রিপাবলিকানরা চাইলেও বাইডেনের পছন্দের ব্যক্তির নিয়োগ আটকে দিতে পারবেন না।

এদিকে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে রিপাবলিকানরা। এটি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জন্য মাথাব্যথার কারণ হবে। বাইডেন চাইলেও প্রতিনিধি পরিষদে আইনপ্রণয়নসহ অন্যান্য কাজ করতে পারবেন না।

অন্যদিকে ফল যা-ই হোক, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামতে চাইছেন ট্রাম্প। আগামী মঙ্গলবারই তিনি তার নির্বাচনী প্রচারসংক্রান্ত কোনো ‘বড় ঘোষণা’ দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।