ফেইসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপনকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল রবিবার শুনানি শেষে বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের জামিনের আদেশ দেয়।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ বা উসকানিমূলক পোস্ট বা মন্তব্য করবেন না এমন শর্তে ঝুমন দাসকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম গোলাম মোস্তফা।
ব্যারিস্টার তাপস বল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনি (ঝুমন দাস) মুচলেকা দিচ্ছেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিদ্বেষমূলক বা ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য বা পোস্ট করবেন না। আদালতের আদেশ পেয়ে চলতি সপ্তাহে তার জামিনে কারামুক্তির চেষ্টা করব।’
গত ২৮ আগস্ট ফেইসবুকে ঝুমন দাসের পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ৩০ আগস্ট শাল্লা থানা পুলিশ তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় গত ৪ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট আদালতে ঝুমন দাস জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর হয়। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।
গত বছরের ১৬ মার্চ হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ফেইসবুকে ঝুমন দাসের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন রাতে তাকে আটক করে শাল্লা থানা পুলিশ। এর জের ধরে পরদিন ১৭ মার্চ নোয়াগাঁও গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। ওই দিন ঝুমন দাসকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ফেইসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় ২২ মার্চ তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে পুলিশ। ছয় মাস কারাগারে থাকার পর এ মামলায় ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে জামিন পান ঝুমন দাস।