খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে আরও অনিশ্চয়তায় বিশ্ব

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গত মাসে বিশ্ব অর্থনীতির যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে বলে এখন মনে করছে বিশ্ব আর্থিক খাতের শীর্ষ এই সংস্থাটি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সে উৎপাদন খাতের গতি ধারাবাহিকভাবে কমে আসার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে আইএমএফ গত রবিবার বলেছে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলাতে দেশে দেশে আর্থিক প্রবাহে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ, চীনে প্রবৃদ্ধি কাক্সিক্ষত গতি না পাওয়া, পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে খাদ্যে নিরাপত্তার ঝুঁকি বিশ্বকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত অক্টোবরে আইএমএফ ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতির (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনে। কিন্তু এখন ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে প্রকাশের জন্য তৈরি করা একটি ব্লগে আইএমএফ বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতির সূচকগুলো আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করছে, বিশেষ করে ইউরোপে। জি-২০ভুক্ত অধিকাংশ দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতের সূচকগুলো ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। টানা কয়েক মাস ধরে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। আর তাতে পুরো বিশ্বে অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।  আইএমএফ বলেছে, ‘বিশ্ব অর্থনীতি এরই মধ্যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে; দুর্বল হতে থাকা অর্থনৈতিক সূচকগুলো বলছে, সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। ইউরোপে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই পর্যায় দীর্ঘায়িত হতে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের নীতি সুদহার অনেক বেশি বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারে। তাতে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ির দিকে যেতে পারে।’

আইএমএফ আরও বলছে, পরিস্থিতি সে রকম হলে আর্থিকভাবে দুর্দশায় থাকা দেশগুলোতে ঋণ সংকটের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট বিশ্বজুড়ে আরও ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।