দিরাইয়ে আ.লীগের সম্মেলনে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪০

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বেলা ২টার দিকে উপজেলা সদরের বিএডিসি মাঠে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পরপরই ওই সংঘর্ষ বাধে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা সম্মেলন মঞ্চে উঠতে না পারায় তাদের ক্ষুব্ধ অনুসারীরা পুলিশের উপস্থিতিতে মঞ্চে থাকা কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপরও দফায় দফায় হামলা করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়ের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলার সময় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান। বিষয়টি পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবগত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়কে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন তিনি।

তবে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের বিষয়ে সম্মেলনস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি রাজনৈতিক বলে দাবি করেন তিনি।

জানা গেছে, দীর্ঘ ৮ বছর পর দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন গতকাল দুপুর ১২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরে পৌনে ২টার দিকে শুরু হয়। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার পরপরই দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়ের নেতৃত্বে কিছু নেতাকর্মী মঞ্চে উঠতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়ের লোকজন বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোশাররফ হোসেন ও রঞ্জন রায়ের লোকজন দফায় দফায় ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন মঞ্চে। এ সময় সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মঞ্চে থাকা নেতাকর্মীরা প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। এছাড়াও স্থানীয় নেতাকর্মীরা মানব ঢাল তৈরি করে কেন্দ্রীয় নেতাদের রক্ষা করেন।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. রায়হান উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থল থেকে আসা আহত ৪০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোশাররফ হোসেন ও রঞ্জন রায়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে হামলা ও সংঘর্ষ শেষে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সম্মেলন ফের শুরু হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়ের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুল সামাদ আজাদ ডন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্ত, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামীমা শাহরিয়া প্রমুখ।

সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, যারা সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।