প্রয়াত স্বামীর অবসরকালীন ভাতার (পেনশন) টাকা পাইয়ে দিতে এক নারীর কাছে ঘুষ এবং পেনশনের ওই টাকা পেলে তার একটি অংশ দাবির অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফাতেহা-তু-জাহান প্রতিকার চেয়ে গত ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
ফাতেহা-তু-জাহান বারহাট্টার বাউসী ইউনিয়নের নতুন শেখেরপাড়া গ্রামের প্রয়াত আবদুল লতিফ মাস্টারের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মৃত নুরুল হোসেন খন্দকারের মেয়ে।
তিনি জানান, তার স্বামী আবদুল লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসরগ্রহণের সাত-আট বছর পর ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট মারা যান। তিনি দুই স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যান। ফাতেহা-তু-জাহান নিঃসন্তান থাকায় কৌশলে তাকে বাদ দিয়ে আবদুল লতিফের অবসরকালীন ভাতা উত্তোলনের কাগজপত্র শিক্ষা অফিসে জমা দেয় তার আরেক স্ত্রীর সন্তানরা। বিষয়টি জানার পর প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেন ফাতেহা-তু-জাহান।
মামলা চলাকালে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান ও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মা মামলা তুলে নিলে ফাতেহাকে পারিবারিক পেনশনের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। শিক্ষা কর্মকর্তার এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে মামলা প্রত্যাহার করে পেনশনের জন্য কাগজপত্র জমা দেন তিনি। এ সময় বিনয় চন্দ্র শর্মা পেনশনের টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ এবং পেনশনের ওই টাকা পেতে শুরু করলে তার একটি অংশ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন ফাতেহা। পরে গত ৩ নভেম্বর পেনশনের টাকা পাওয়ার কাগজপত্রে স্বাক্ষর লাগবে বলে মোবাইল ফোনে কল করে তাকে নিজের অফিসে ডেকে পাঠান বিনয় চন্দ্র। তিনি সরল বিশ্বাসে ওই কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। পরে জানতে পারেন কাগজপত্রে তাকে তালাকপ্রাপ্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বিনয় প্রয়াত আবদুল লতিফের আরেক স্ত্রীর সন্তানদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ প্রতারণা করেছেন বলে দাবি ফাতেহার। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ীও তিনি তালাকপ্রাপ্ত নন। এসব বিষয় উল্লেখ করে গত ১৩ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান ফাতেহা।
এ প্রসঙ্গে তার স্বামীর বাড়ির এলাকা বাউসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল হক বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে কাজী দিয়ে বিয়ে না পড়ালেও হুজুর দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়েছে। গ্রামবাসীসহ আমরা সবাই জানি মৃত আবদুল লতিফ মাস্টারের দ্বিতীয় স্ত্রী ফাতেহা-তু-জাহান।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মা বলেন, ‘প্রথম পক্ষের সন্তানরা ফাতেহা-তু-জাহান তালাকপ্রাপ্ত মর্মে অভিযোগ দিয়েছেন। কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে তিনি পেনশন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বারহাট্টার ইউএনও এসএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহার ও কাগজপত্র জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’