৩ ডিসেম্বর হচ্ছে না ছাত্রলীগের সম্মেলন

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন আগামী ৩ ডিসেম্বর হচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাসবভন গণভবনে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্মেলনের তারিখ পেছানোর নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তার জাপান সফরের কারণে এমন নির্দেশনা দেন। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের সম্মেলন পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাচ্ছেন ২৯ নভেম্বর, ফিরবেন ৩ ডিসেম্বর। সে কারণে ছাত্রলীগের সম্মেলন ৩ ডিসেম্বরের বদলে ওই মাসের অন্য কোনো দিন করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, ছাত্রলীগের সম্মেলন পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর এবং যুব মহিলা লীগের সম্মেলন ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই হবে। স্বাচিপের সম্মেলন ২৫ নভেম্বর আর মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২৬ নভেম্বর হওয়ার কথা।

গণভবনে গতকালের বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক নেতা জানান, শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল দুপুরে সাক্ষাৎ করতে যান ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এ সময় ৩ ডিসেম্বরের পরে যেকোনো দিন সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে বলেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন তারিখ নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ সময় আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, কয়েকটি জেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক এবং কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৮ সালের মে মাসে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়। ওই বছরের জুলাইয়ে সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান গোলাম রাব্বানী। আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যকে। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয় ও লেখককে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে তারা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।