লড়াইয়ের ঘোষণা ট্রাম্পের, প্রথম চ্যালেঞ্জ নিজ দলে

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা কয়েক দিন ধরেই বলে আসছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান পার্টির নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশেষে গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ফ্লোরিডায় নিজের বিলাসবহুল মার-এ-লাগো স্টেট থেকে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন তিনি। এর মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করতে যাচ্ছেন ৭৬ বছর বয়সী এ রাজনীতিক।

এক দফা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পরের দফায় ভোটে হেরে ফের হোয়াইট হাউজে বসার এই তোড়জোড়কে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল প্রচেষ্টা বলে জানিয়েছে বিবিসি। এবার নির্বাচনে লড়তে তাকে অন্তত ছয়টি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করেন বিবিসির উত্তর আমেরিকা প্রতিনিধি অ্যান্থনি জুরকার। তিনি লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তার চার বছরের মেয়াদে কর কমানো ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের মতো উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ করেছেন। কিন্তু তার কিছু বড় ব্যর্থতাও রয়েছে। তিনি ডেমোক্র্যাটদের স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার প্রস্তাব বাতিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বারবার অবকাঠামোগত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও কখনো তা ফলপ্রসূ হয়নি। রিপাবলিকানরা তার এসব অক্ষমতার কথা মনে রাখবে।

এর ওপর ট্রাম্প করোনাভাইরাস মহামারী সামাল দিতে চরম ব্যর্থ হয়েছেন, তা নানা দিক থেকে তাকে আক্রমণের পথ খুলে দিয়েছে। ট্রাম্পকে কেবল প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেসব নীতি গ্রহণ করেছিলেন, সেগুলো সংস্কারের পেছনে ছুটলেই হবে না; বরং প্রথম মেয়াদের শেষের মুহূর্তে তিনি যেভাবে নির্বাচন সামলেছেন এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ইউএস ক্যাপিটলে তার সমর্থকদের আক্রমণে উসকানি দেওয়াতে তার যে ভূমিকা, সেটারও কারণ তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে। পুলিশের টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে সেদিন ট্রাম্প সমর্থকরা ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনে আক্রমণ এবং ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে; যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা সহজে ভুলবে না। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ওই ঘটনার প্রভাব পড়তে দেখা গেছে।

ট্রাম্প কেন আরেকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছে বিবিসি। যার অনেকগুলোর কারণের একটি হলো নিজের বিরুদ্ধে আসা অপরাধের অভিযোগ ও সেগুলোর তদন্তকে সামাল দেওয়া। বর্তমানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ, নিউইয়র্কে তার ব্যবসা ঘিরে জালিয়াতির মামলা, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মানহানির মামলা এবং ক্যাপিটল হিলের ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই তদন্তগুলোর যেকোনোটি পূর্ণাঙ্গ বিচারের দিকে যেতে পারে এবং সাময়িকভাবে ট্রাম্পের প্রচারাভিযানের পরিকল্পনাগুলোকে ভেস্তে দিতে পারে। সবচেয়ে খারাপ যে পরিস্থিতি হতে পারে তা হলো, তার বিশাল অঙ্কের জরিমানা বা জেলও হতে পারে।

আট বছর আগে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর দৌড়ে ফ্লোরিডার গভর্নর জেব বুশের মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প। জেব বুশকে সে সময় শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়েছিল। যদিও পরে ব্যাপক প্রচারাভিযান আর বুশ পরিবারের নাম তার কাজে আসেনি। এর কারণ ছিল রিপাবলিকানদের অভিবাসন আর শিক্ষানীতি থেকে তার বের হয়ে যাওয়া। ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে ফের ফ্লোরিডার গভর্নরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হতে পারে। এ বছর ফ্লোরিডার পুনর্নির্বাচিত হওয়া গভর্নর রন দেসান্তিসের প্রতি রিপাবলিকান দলের শক্ত সমর্থন রয়েছে। রাজনীতির জাতীয় মঞ্চে তার পদচারণা না থাকলেও তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ঊর্ধ্বমুখী। যদিও রন দেসান্তিস রিপাবলিকানদের হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার দৌড়ে নাম লেখাবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের প্রার্থিতা ঘোষণার আগে কনজারভেটিভ দলের হয়ে একটি গ্রুপ ধারাবাহিক জরিপ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় রন দেসান্তিসের পেছনে রয়েছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান দলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এই অঙ্গরাজ্যগুলোতে আগে ভোট হয়।

আগের সব চ্যালেঞ্জ পূর্বাভাস হলেও তাকে অন্তত একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে। আর সেটা হলোÑ বয়স।  ট্রাম্প ফের যখন প্রেসিডেন্ট হবেন, তখন শপথ গ্রহণের সময় তার বয়স হবে ৭৮ বছর। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়সও তাই। ফলে ট্রাম্প যদি সত্যিই জিতে যান, তবে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট। কিন্তু রিপাবলিকান মনোনয়ন পেতে যে কঠিন প্রচারাভিযানের মধ্য দিতে যেতে হয়, এই বয়সে ট্রাম্প সেই চাপ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ট্রাম্পকে তার তুলনায় অনেক কম বয়সী প্রার্থীদের সঙ্গে লড়তে হবে।