বহুল প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের একটি টিউবের উদ্বোধন হচ্ছে ২৬ নভেম্বর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করবেন। এদিন টানেলের পতেঙ্গা প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, টানেলের একটি টিউবের উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। তবে পুরো টানেলের উদ্বোধন আগামী জানুয়ারিতে হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুন অর রশিদ গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২৬ নভেম্বর টানেলের দক্ষিণ প্রান্তের টিউবের নির্মাণকাজ শেষ হচ্ছে। শেষ হওয়া উপলক্ষে একটি উদযাপন অনুষ্ঠান হবে। উত্তর প্রান্তের (নদীর অংশে) টিউবের কাজ এখনো বাকি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব কাজ আমরা আগামী কিছুদিনের মধ্যে শেষ করতে পারব। আজ (বুধবার) পর্যন্ত সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি ৯৩ শতাংশ। আগামী জানুয়ারি মাসের শুরুতেই টানেল দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করা সম্ভব। এখন সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি বলেন, চলতি মাসের ২৬ তারিখেই টানেলের সব ধরনের পূর্ত (সিভিল) কাজ শেষ হচ্ছে। এরপর যৎসামান্য অবশিষ্ট বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিকের কাজ দ্রুতই শেষ করার চেষ্টা চলছে।
টানেল এবং দুই পাশের সংযোগ সড়ক ঘিরে দিনরাত চলছে শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ। নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গা পয়েন্টে টানেলের সংযোগ সড়কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাজও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘৪ ডিসেম্বরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। কিছু চমকও থাকবে। এখনই আমরা সবকিছু বলছি না। তবে ২৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি দেখার কথা রয়েছে।’
উল্লেখ্য, চীনের কারিগরি সহায়তায় ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি। চীনের এক্সিম ব্যাংক এই প্রকল্পের জন্য ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা ঋণ দেয়। অবশিষ্ট টাকার জোগান দেয় বাংলাদেশ সরকার। চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড টানেলটি নির্মাণ করছে। ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটির উত্তরের অংশ পড়েছে চট্টগ্রাম শহরের নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গার কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে। আর দক্ষিণে গিয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী সার কারখানার (কাফকো) মাঝখান দিয়ে।
এদিকে, বঙ্গবন্ধু টানেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের লক্ষ্যে সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) লিমিটেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৯৮৩ দশমিক ৮২ কোটি টাকায় এ কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাসস জানায়, বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চলতি বছরের ৩৪তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, কোম্পানিটিকে প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থ স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে, যার পরিমাণ প্রায় ৬৫৬ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ অর্থ বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে, যার পরিমাণ প্রায় ৩২৬ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা।