ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতির মতো প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। যদিও এর আগের মাসের তুলনায় আমানতের পরিমাণ কমেছে ২১ কোটি টাকা। আগস্টে স্কুল ব্যাংকিংয়ে আমানত ছিল ২ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা।
ব্যাংকগুলোতে স্কুল ব্যাংকিংয়ে হিসাব খোলা অব্যাহত রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে হিসাব খোলার পরিমাণ ও আমানত আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ পরিবার আর্থিক সংকটে ভুগছে। ফলে স্কুল ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে মোট স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের সংখ্যা ৩১ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০টি। এরমধ্যে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩১০টি হিসাব শহরাঞ্চলে এবং ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫৫০টি হিসাব গ্রামাঞ্চলে খোলা হয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ব্যাংকে শিক্ষার্থীদের হিসাব ছিল ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৬০৬টি। আগস্টে এ ধরনের হিসাব খোলা হয় ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৬৬১টি। এরপরে সেপ্টেম্বরে এসে স্কুল ব্যাংকিংয়ের হিসাবের পরিমাণ আরও কমে দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০টি। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকে এ সব হিসাব ধারাবাহিকভাবে কমছে। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে স্কুল ব্যাংকিংয়ে ২৮ লাখ ২৫ হাজার ৯৯২ শিক্ষার্থীর হিসাব খোলা হয়েছিল। এ সময় আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ২১৬ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। এর প্রভাব স্কুল ব্যাংকিংয়েও পড়েছে। ফলে চলতি বছরে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহী করতে ২০১০ সালে স্কুল ব্যাংকিং কর্মসূচির প্রবর্তন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও ২০১১ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা টাকা জমা রাখার সুযোগ পায়। এতে বেশ সফলতা পায় আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। প্রথম বছরে ২৯ হাজার ৮০টি স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয়। এর পরের বছর ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় ব্যাংকগুলোতে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৭টি হিসাব খোলা হয়।