সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন অন্য শ্রমিকরা। এ সময় তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শনিবার সকালে আশুলিয়া ইউনিয়নের আউকপাড়া এলাকায় চীনের মালিকনাধীন রাইজিংটেক্স ফ্যাশন লিমিটেড
কারখানার সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শতাধিক শ্রমিক।
বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকরা জানায়, কারখানাটিতে প্রায় সাত শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। গত কয়েকদিন ধরে কারখানার বেশকিছু নারী শ্রমিককে যৌন হয়রানি করেন কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার রমজান আলী। এ ঘটনায় শ্রমিকরা বার বার কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবি করলে উল্টো কারখানা কর্তৃপক্ষ ৩২ জন নিরীহ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করেন।
কারখানার শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী শ্রমিকসহ কারখানার অন্য শ্রমিকরা অভিযুক্ত অ্যাডমিন ম্যানেজারকে প্রত্যাহার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির পাশাপাশি ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।
যৌন হেনন্তার প্রতিবাদে সমাবেশ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফজলুল কাদের বলেন, আমি বাইরে আছি, এ বিষয়ে পরে কথা বলব।
স্বাধীন বাংলা গার্মেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আল কামরান বলেন, রাইজিংটেক্স ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার মালিকের চালক রমজান আলী অষ্টম শ্রেণি পাস হওয়ার পরও অ্যাডমিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিছুদিন আগে। এর পর থেকেই সে নারী শ্রমিকদের গায়ে হাত দিয়ে আইডি কার্ড চেক করাসহ বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ২৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। তাই ভুক্তভোগী শ্রমিকসহ সকল শ্রমিক কাজ বন্ধ করে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে।
পরবর্তীতে কলকারখানা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আগামী সোমবার বসে বিষয়টি মীমাংসার কথা হওয়ায় আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
অন্যদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানাটির সামনে শিল্প পুলিশের সদস্যদের দেখা গেলেও এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।