পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ‘ভন্ডামির’ অভিযোগ ফিফা সভাপতির

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব পাওয়ার পর থেকেই হয়ে আসছে নানা সমালোচনা। শুরুতে দেশটির গরম আবহাওয়া নিয়ে যে আলোচনার শুরু। এরপর একে একে এসেছে আরও অনেক প্রসঙ্গ। সাম্প্রতিক সময়ে যেখানে যোগ হয় দেশটির মানবাধিকার রেকর্ড, অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে কর্র্তৃপক্ষের ‘অমানবিক আচরণ’ এবং দেশটির আইনে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে তুলে ধরার মতো বিষয়গুলো। বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কাতারের পক্ষে ঢাল হলেন। দোহায় সংবাদ সম্মেলনে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বললেন। এ সময় কাতারের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে প্রতিবেদনকে তো ইউরোপিয়ানদের ‘ভন্ডামি’ বলেই আখ্যা দিলেন তিনি।

ফিফা সভাপতি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে কথা বলার আগে ইউরোপিয়ানদের নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত। ইনফান্তিনো তার বক্তব্যই শুরু করেন এই বলে ‘আজ আমার দারুণ অনুভূতি হচ্ছে, আজ আমি নিজেকে কাতারি, আরব, আফ্রিকান, সমকামী, অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে অনুভব করছি।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ২০২১ সালে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতারে স্টেডিয়াম বানাতে আসা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের ৬ হাজার ৫০০ অভিবাসী শ্রমিক মারা যান। কাতারে অবস্থিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল গার্ডিয়ান। যদিও কাতার সরকার বলেছিল, শ্রমিক মারা যাওয়ার সংখ্যাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ যারা মারা গেছেন তারা সবাই স্টেডিয়াম নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।

ফিফা প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের পশ্চিমা ও ইউরোপের দেশগুলো অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমি ইউরোপীয়। কিন্তু গত ৩ হাজার বছর ধরে বিশ্বব্যাপী আমরা (ইউরোপীয়রা) যা করছি, কাউকে নীতি কথা বলার আগে আমাদের পরবর্তী তিন হাজার বছর ক্ষমা চাওয়া উচিত। যদি ইউরোপ সত্যিই এসব মানুষকে নিয়ে ভাবে, তাহলে তাদের উচিত এসব শ্রমিকদের ইউরোপ-আমেরিকায় কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া, তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেওয়া। যেমনটি কাতার করেছে।’

ফিফা প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘একপক্ষীয় নৈতিক শিক্ষা শুধুমাত্র ভন্ডামি। কাতার ২০১৬ সাল থেকে যেভাবে পরিবর্তিত হয়েছে সেটিকে কেন কেউ স্বীকৃতি দিচ্ছে না।’

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই প্রধান বলেন, কাতার বিশ্বকাপ হবে ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কাতার এবং ফিফা যৌথভাবে নিয়েছে। অ্যালকোহল নিষিদ্ধের বিষয়টি যদি বিশ্বকাপের জন্য অনেক বড় ইস্যু হয়, তাহলে আমি এখনই পদত্যাগ করব এবং সমুদ্রপাড়ে গিয়ে আরাম করব।’