নার্সিং হোমের বিল পরিশোধ করতে নিজের নবজাতক সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন রাজশাহীর এক বাবা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নবজাতকটি উদ্ধার করে পুলিশ। নবজাতকটিকে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সোমবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানায় উদ্ধার হওয়া শিশুকে কোলে নিয়ে তার মা জান্নাতুন বেগম বলেন, আমার বুকের ধন। আমি বুকে পেয়েছি। আর ছাড়ছি না। ভিক্ষা করে খাওয়াব। তাও ওরে অন্য কারও কাছে দেব না।
জান্নাতুন বলেন, ১০ নভেম্বর বাচ্চা জন্মের পরদিন, চিকিৎসার জন্য শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমার স্বামী রহিদুল ইসলাম বাচ্চাটিকে নিয়ে যায়। পরে সে বলে আমাদের মেয়ে মারা গেছে। তিন দিন পর আমি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর আমার মেয়ের কবর দেখাতে বলি। কিন্তু সে কবর দেখায় না। উল্টাপাল্টা কথা বলে। আমি বারবার কবর দেখতে চাইলে আমাকে মারার হুমকি দেয়। বিভিন্ন রকমের কথা বলে। এ নিয়ে হাসপাতাল থেকে আসার পর থেকেই আমাদের মধ্যে বিবাদ লেগেই ছিল। রবিবার সকালে আমি ছাড়াও আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন ওকে জেরা করায় সে স্বীকার করে যে বাচ্চাটিকে সে একজনকে দিয়ে দিয়েছে। এটি জানার পরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ বাচ্চা উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। আমার বাচ্চা ফিরে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।
রাজপাড়া থানার এসআই কাজল নন্দি জানান, রবিবার সকালে আমাদের ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। আমরা গিয়ে শিশুটির বাবা রহিদুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। সে স্বীকার করে নগরীর দাশপুকুর এলাকার তরিকুলের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বাচ্চাটি বিক্রি করেছে। এরপর তরিকুলকে আটক করার পর তিনি জানান, কাঁকনহাট এলাকার সিরাজুল ইসলাম নামে তার পূর্বপরিচিত এক লোকের কাছে বাচ্চা দিয়েছেন। পরে পুলিশের একটি দল বাচ্চাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রহিদুল, তরিকুল ও সিরাজের স্ত্রী বিউটি বেগমকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রহিদুল জানিয়েছে, নার্সিং হোমে বাচ্চা হওয়াতে গিয়ে প্রায় ২৪ হাজার টাকা বিল হয়েছিল। এই টাকা তার কাছে ছিল না। এজন্যই সন্তান বিক্রি করা টাকা দিয়ে সে স্ত্রীকে নার্সিং হোম থেকে বাড়ি নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে জান্নাতুন তার স্বামী রহিদুলকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেছেন। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে তরিকুল, সিরাজ ও তার স্ত্রী বিউটিকেও।