ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে মাঝারি মাত্রার এক ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে ৫ শতাধিক। গতকাল সোমবার ঘটা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬। এতে প্রদেশের শত শত বাড়িঘর ধসে গেছে বলে জাভার এক কর্মকর্তা জানান। দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল মেট্রো টিভি বলেছে, সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে পশ্চিম জাভায় এ ভূমিকম্প হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর অঞ্চল ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। রাজধানী জাকার্তায়ও এই কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কিত বাসিন্দারা ভবনের বাইরে নেমে আসেন। ভূমিকম্পে সিয়ানজুর শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানকার স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হেরমান সুহেরমান স্থানীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে শরীরে আঘাত পেয়েছে। টেলিভিশনগুলোর সম্প্রচারিত খবরে দেখা যায়, সিয়ানজুরে কয়েকটি ভবন একেবারে ধসে পড়েছে এবং সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ সড়কে পড়ে আছে। সিয়ানজুর শহরের স্থানীয় প্রশাসনের মুখপাত্র আদম এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পে কয়েক হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। গত কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের কল্পিত ‘রিং অব ফায়ারে’ অবস্থান হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা দেখা যায়। এখানে টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ঘটে। শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, ফিলিপাইন, জাপানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় সব দেশই এ কারণে ভূমিকম্পের অত্যধিক ঝুঁকিতে আছে। ২০০৯ সালে পাদাংয়ে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এক ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেই সময় প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এক হাজার ১শ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হয় আরও অনেকে। এছাড়া ভূমিকম্পে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনাও ধ্বংস হয়ে যায়। ২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলে ৯ দশমিক ১ মাত্রার মাত্রার ভয়াবহ একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের পরপর আঘাত হানে সুনামি। তখন ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।