রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনকে এক তদন্তের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বরে অবৈধ ঘোষণা করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এমনকি অধ্যক্ষ পদে ফরহাদ হোসেনের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশও স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এরপরও তিনি নিয়মিত অফিস করছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এমনকি বিভিন্ন অফিস আদেশ ও নথিতে স্বাক্ষর করছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের রায়ের বিষয়টি জেনেছি। তবে এখন রায়ের কপি হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। তা পেলেই ফের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’
সূত্র জানায়, তদন্তের আলোকে বিধি অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দেয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। মাউশি যখন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে তখনই হাইকোর্টে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বোর্ডের সেই চিঠির কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
আইনজীবী ব্যারিস্টার সিদ্দিকুর রহমান খান জানান, এই আদেশের ফলে মনিপুর স্কুলের অধ্যক্ষ পদে ফরহাদ হোসেনের আর দায়িত্ব পালনের আইনগত কোনো সুযোগ নেই। অথচ ফরহাদ হোসেন আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
ঢাকা বোর্ডের তদন্তে বলা হয়, ২০২০ সালের ২ জুলাই তারিখে অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হয়। নিয়ম অনুযায়ী তার অবসরে যাওয়ার কথা। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো অনুযায়ী, তাকে কোনোভাবেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। অথচ বিধি অমান্য করে ফরহাদ হোসেনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।